শিরোনাম
Home >> লীড নিউজ >> দোয়ারাবাজারে একাডেমিক ভবন সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

দোয়ারাবাজারে একাডেমিক ভবন সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ-
নানা সমস্যার আবর্তে চলছে লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজের  শিক্ষা কার্যক্রম। প্রতি বছর এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অবিশ্বাস্য সফলতা বয়ে আনলেও একাডেমিক ভবন, বিশুদ্ধ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও শিক্ষক সংকটসহ নানা সমস্যায় এখন জর্জরিত। সমস্যার যেন শেষ নেই দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টির।
সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে ১৬১৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুল শাখায় ৯জন শিক্ষক সংকটসহ পৃথকভাবে পাঠদানের জন্য একাডেমিক ভবন সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ চালু থাকলেও রুম সংকটের কারণে বিজ্ঞানাগার চালু করাসহ পৃথক কম্পিউটার ল্যাব ও স্বতন্ত্র পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছেনা। এছাড়া প্রায় দুই সহস্রধিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয় একটি মাত্র টিউবওয়েল রয়েছে। এ কারণে প্রতিদিনই খাবার পানির জন্য শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ দিকে বর্ষা মৌসুমে প্রতিনিয়ত বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত উপেক্ষা  আশাউরা, বনগাঁও সহ হাওর পাড়ের প্রত্যন্ত দূর এলাকা হতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে হয়। বর্ষাকালে এখানকার শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। বর্তমানে বিদ্যালয়ে স্থায়ী ছাত্রাবাস নির্মাণ অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। ছাত্রাবা না থাকায় দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের ঝড়েপড়া রোধ করাও সম্ভব হচ্ছেনা। এছাড়া স্থানীয় লিয়াকতগঞ্জ (পশ্চিম বাংলাবাজার) বাজার হতে বিদ্যালয় পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি এখন চলাচল অযোগ্য হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত ভাঙাচোড়া রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়া চতুর দিকে সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে স্কুল এন্ড কলেজটি।
দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সীমান্ত এলাকাসহ হাওরপাড়ের বিস্তৃর্ণ এলাকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। ২০১৫ সালে ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের আন্তরিক প্রচেষ্ঠার ফলে বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত হয়। পরবর্তীতে দুইটি একাডেমিক ভবন নির্মিত হলেও প্রতিবছর স্কুল ও কলেজ শাখার অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার ফলে বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবিশাস্য ফলাফল অর্জন করছে। কিন্তু বর্তমানে একাডেমিক ভবন সংকটে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের পানি, স্যানিটেশন সমস্যা দূরীকরণসহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিষ্ঠান প্রধান আব্দুল কাদির বলেছেন, স্কুল এন্ড কলেজের বর্তমান গভর্নিংবডির সভাপতি আমীরুল হক চেয়ারম্যান এর আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় বিদ্যালয়ের অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বর্তমানে একটি বহুতল একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ একটি ছাত্রাবাস ও সীমানা প্রাচীর এবং পানি ও স্যানিটেশন সমস্যা দূরী করণে আমি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি।
লক্ষীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও গভনিংবডির সভাপতি আমিরুল হক বলেন ,ছাতক দোয়ারার মাননীয় সংসদ সদস্য আমাদের অভিভাবক মুহিবুর রহমান মানিক মহোদয় আমাদের প্রতিষ্ঠানে একটি টিনসেট বিল্ডিং দিয়েছেন অনেক সহযোগিতা করেছেন,খোজখবর নিচ্ছেন ।এখনো প্রতিষ্ঠানের অনেক সমস্যা রয়েছে আশাকরি এমপি মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ আমাদের স্কুল এন্ড কলেজের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবেন,আমরা সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*