শিরোনাম
Home >> লাইফস্টাইল >> তালায় দীর্ঘ ১৮ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজ নির্মাণের কাজ

তালায় দীর্ঘ ১৮ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজ নির্মাণের কাজ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ-মোঃ খলিলুর রহমান
ব্রিজ নির্মাণের লক্ষ্যে কংক্রিটের পিলার উঠেছিল কপোতাক্ষ নদের তালা উপজেলার কানাইদিয়া ও পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি পয়েন্টে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘ ১৮ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজ নির্মাণের কাজ। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পিলারগুলো এখন সাতক্ষীরার তালা উপজেলা ও খুলনার পাইকগাছার লাখো মানুষের হতাশার কারণ হয়েছে। আদৌ এই ব্রিজ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে কি না তা নিয়ে সন্দিহান
এলাকাবাসী। শুধু তাই নয়, সাতক্ষীরা-খুলনার লাখো মানুষের স্বপ্নের এই ব্রিজ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় দুই জেলার মানুষ এখন বাঁশের তৈরি সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন। গতিহীন হয়ে পড়েছে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য। উৎপাদিত ফসলও সঠিকভাবে বাজারজাত করতে পারছে না তারা। মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়েই পার করতে বাধ্য হচ্ছে মোটরসাইকেল ও মালবোঝাই ভ্যান। এতে ইতিমধ্যে অনেকে দুর্ঘটনার শিকার
হয়েছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা জোরালো করার লক্ষ্যে কপোতাক্ষ নদের ওপর কপিলমুনি-কানাইদিয়া পয়েন্টে ব্রিজ নির্মাণের লক্ষ্যে সরকার এক কোটি ৯৩ লাখ ৪২ হাজার ৯শ ১৯ টাকা ৫৫ পয়সা বরাদ্দ দেয়। কাজের মান উন্নয়নের জন্য পরে বাজেট বাড়িয়ে করা হয় দুই কোটি ৩৬ লাখ টাকা।এন হক অ্যাসোসিয়েট নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০০০ সালে এই ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করে। ২০০৩ সালের ১২ নভেম্বর পর্যন্ত আংশিক কাজ করে খুলনার একটি ব্যাংকের শাখা থেকে এক কোটি ৬৭ লাখ ৭২২ টাকা বিল উত্তোলন করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে খুলনা মহানগর হাকিম আদালতে একটি মামলা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে মামলা জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে সেতু নির্মাণ কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সেতুটির বাকি নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করতে পরে ইসলাম গ্রুপ নামে আরেকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ শুরু করলেও মন্ত্রণালয়ে ব্রিজ নির্মিত হলে কপোতাক্ষ নদের স্রোতের বাধা পড়বে মর্মে একটি চিঠি দেয় সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর ব্রিজ নির্মাণ কাজ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজু জানায়,সাঁকো দিয়ে পার হতে গেলে সেটি নড়চড়া
করে, পার হয়ে স্কুলে যেতে ভয় লাগে
ব্যবসায়ী পলাশ কর্মকার বলেন, ব্রিজটি নির্মিত না হওয়ায় নানাভাবে পিছিয়ে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র কপিলমুনি বাজার। এলাকার ব্যবসা-
বাণিজ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এক কথায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছি আমরা।তালা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আনারুল হক বলেন,কপোতাক্ষ নদের ওপারে কপিলমুনি খুলনার একটি বড় বাণিজ্য কেন্দ্র। আমাদের উপজেলায় উৎপাদিত কৃষি ফসলের একটি বড় অংশ কপিলমুনি বাজারে বিক্রি হয়। ব্রিজের অভাবে উৎপাদিত ফসল ওপারে নিয়ে যেতে দুর্ভোগে পড়তে হয়। বাঁশের সাঁকো দিয়ে মালবোঝাই ভ্যান পার করা কঠিন হয়ে পড়ে। সব জটিলতা কাটিয়ে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে এলাকাবাসী খুবই উপকৃত হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*