শিরোনাম
Home >> রাজনীতি >> পটুয়াখালী বাউফলে দুটি গ্রুপের আলাদা আলাদাভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক

পটুয়াখালী বাউফলে দুটি গ্রুপের আলাদা আলাদাভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃএম.জাফরান হারুন

পটুয়াখালী বাউফলে দুটি গ্রুপের আলাদা আলাদাভাবে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে । সেখানে কেন্দ্রের নির্দেশে জেলা আওয়ামী লীগ, এমপি ফিরোজের ডাকা সম্মেলনে উপস্থিত থেকে নতুন কমিটির নাম ঘোষণা করেছেন । কিন্তু আরেকটা অংশ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল। সেখানেও সম্মেলন হয়েছে নতুন কমিটিও হয়েছে । কিন্তু উপস্থিত ছিলেন না জেলার কোন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও মেয়র জুয়েল ।এব্যাপারে মেয়র জুয়েল সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন জাতীয় দৈনিক গনমুক্তি’র ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি এম জাফরান হারুন’র সাথে !! তিনি সাক্ষাৎকারে প্রতিবেদককে বলেন,

মেয়র: আপনারা জানেন যে বাউফলে আলাদা আলাদাভাবে আলাদা আলাদা জায়গায় দুটি ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে । এর পিছনে কারন হলো, সম্মেলন তো দুটি হওয়ার কথা না ।সম্মেলন হবে একটি ।
আমি জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক । সেক্ষেত্রে আমার কাছে একটি মেসেজ আছে এবং যা জানি যে সম্মেলন হওয়ার নির্ধারিত জেলা আওয়ামী লীগ ঠিক করে দিয়েছে যেন সকলের সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সম্মেলন করে এবং জেলা আওয়ামী লীগ স্হান নির্ধারণ করে দিয়েছে বাউফল উপজেলা পরিষদ চত্বর স্মৃতিসৌধ মঞ্চ আছে সেখানে সবাই একত্রিত হয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে সম্মেলন যেন করে এবং অনুষ্ঠিত হয় ও হবে । গত কালকে (২৭ নভেম্বর) আমাকে কনফার্ম করলো ।আমি জানি জেলা আওয়ামী লীগ আমাকে জানাল কেন্দ্রর নির্দেশ ও জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশে যেন সকলের সমন্বয়ে সকলের উপস্থিতির মাধ্যমে সম্মেলন করা হয় । সেই হিসাব করে রাত (২৭ নভেম্বর) সাড়ে এগারোটা বারটা পর্যন্ত জানি যে তারা যেহেতু নির্ধারিত স্হান ঠিক করে দিয়েছে সেখানে এমপি ফিরোজ সাহেব সম্মেলন করবেন না। তিনি সম্মেলন করবেন তার জনতা ভবন কার্যালয়ের সামনে পুরানো কোর্ট মাঠে  ।ব্যাপারটা আমি জেলা আওয়ামী লীগ কে জানালে পরে আমাকে জানালো স্হানটা কোথায়? তখন জানালাম তাদের সম্মেলন স্হানের কথা! ততক্ষনাত জেলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করলো এবং বললো যদি এরকম হয় তাহলে তারা জেলা আওয়ামীলীগের কোন নেতৃবৃন্দ বাউফল উপজেলা সম্মেলনে আসবেন না। পরে আমি তাদেরকে জানালাম সেক্ষেত্রে না আসলে সমন্বয়ের কোন সুযোগ থাকবে না এবং একটি অংশ এমপি ফিরোজ সাহেবের সম্মেলনে যাবে না বা কোন প্রকার ঝামেলার সৃষ্টি হলে এর দায় দায়িত্ব কে নিবে? পরে তারা বললো না আমরা কেউই ওই সম্মেলনে আসবোনা । কেন্দ্রের নির্দেশ আছে যে স্হান পরিবর্তন না করে এবং জেলা আওয়ামী লীগের কথা না শুনে তাহলে সেখানে জেলা আওয়ামীলীগের যাওয়ার দরকার নাই ।আমরা ওখানে যাবোনা । পরে জানালাম তারা তারপর যেহেতু সম্মেলন করবে এখানেও তো অনেক ত্যাগি নেতাকর্মীরা আছে তারাও আলাদাভাবে সম্মেলন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে꫰ আমি নিষেধ করেছি꫰ তারাও জেলা আওয়ামী লীগের সাথে সম্মেলনে যাবে꫰ তারপর তারা বললো না সেখানে আর যাওয়া হচ্ছে না। যেহেতু তারা কথা শুনছেনা তাহলে যার যার মত সম্মেলন করুক । সেই থেকে সেই ভাবেই ছিল꫰ ২৮ নভেম্বর সকাল সাড়ে দশটার সময় আমাকে ফোন করে জেলা আওয়ামী লীগ জানালো যে তারা বেলা এগারোটার সময় সম্মেলনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিবে꫰ কেন্দ্রের নির্দেশে সকলের সমন্বয়ে উপস্থিতির মাধ্যমে সেখানে যাবে꫰ তখন আমি বললাম এতোক্ষণ পরে জানালেন! সেখানে তো সম্মেলন শুরু হয়ে গেছে ꫰ তাহলে একটা কাজ করেন যেহেতু আপনারা কেন্দ্রের নির্দেশে আসছেন সকলকে নিয়ে জনতা ভবনের সামনে সম্মেলনে যাওয়ার জন্য একত্রিত হই꫰ আপনারা আসেন আপনাদের নেতৃত্বে সবাই একত্র হয়ে সম্মেলনে যাবে꫰ তখন আমাকে বললো ঠিক আছে পরে জানাচ্ছি ꫰ যখন পরে আমাকে আর জানানো হলো না ꫰ তখন আমিই যোগাযোগ করে বললাম তাহলে আসেন ꫰ তখন বললো আমরা রওয়ানা দিয়ে ফেলেছি ꫰ আমরা ওখান দিয়ে আসবোনা । লোহালিযা দিয়ে কালাইযা ইউনিয়ন হয়ে সম্মেলন কেন্দ্রে আসবো ।ওখান থেকে ফোন দিলে আসবে꫰ তখন আমি বললাম ঠিক আছে আমরা অপেক্ষা করলাম ꫰ পরে জানতে পারি তারা সম্মেলনে গিয়ে পৌছেছে কিন্তু আমাকে আর কোন ফোন বা খোজ নেয়নি । আরেকটা সম্মেলন পৌর শহরের লিচু তলায় ছিল ꫰ যখন জেলা আওয়ামী লীগ ওই সম্মেলনে গিয়েছে তখন আর আমি কোন সম্মেলনে যাইনি  ।পরে তো দুটি সম্মেলনই শেষ হয়ে গেছে ।

প্রতিবেদক: তাহলে আপনাকে কেন ফোন দেয়নি? এবং সেখানে নতুন কমিটিও ঘোষণা করেছেন?

মেয়র:: সেটা জেলা আওয়ামী লীগের বিষয় । এখানের সম্মেলন থেকেও দ্বিতীয় অধিবেশনের মাধ্যমেও কমিটির একটি ডিগলার করেছে । তার ওখান থেকেও তাদের উপস্হিতির মাধ্যমে একটি কমিটি দিয়েছে ।

প্রতিবেদক:: তাহলে কোনটি কমিটি থাকবে নাকি……….
মেয়র:: এখন জেলা আওয়ামী লীগ ও কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত! কোনটা থাকবে বা থাকবেনা!

প্রতিবেদক:: তাহলে আপনি কমিটি নিয়ে আশাবাদী? এখানে আপনার হস্তক্ষেপ……বা তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে তাতে আপনি……..
মেয়র:: অবশ্যই! এখানে আমার কিছু নাই ।আমি তো সাইনিং অথরিটি না꫰ আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক । তবে এরকম একটি বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তের কারনে দুটি সম্মেলন হয়েছে  ।এখানে আমাকেও লিচু তলার সম্মেলনে উদ্বোধক ছিলাম কিন্তু আমি আর কোন সম্মেলনে যাইনি উপস্থিত ছিলাম না। কর্মীরাই তা করেছে  ।

দেশের কন্ঠ২৪.কম/সাকিল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*