শিরোনাম
Home >> লীড নিউজ >> ক্লাসে ঘুমান, শিশুদের দিয়ে সিগারেট আনান এই প্রধান শিক্ষক” শিরোনামে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা

ক্লাসে ঘুমান, শিশুদের দিয়ে সিগারেট আনান এই প্রধান শিক্ষক” শিরোনামে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা

স্টাফ রিপোর্টারঃ- নিরেন দাস
গত ২১/১১/২০১৯ তাং এ “দেশ রুপান্তর” অনলাইন পত্রিকায় “ক্লাসে ঘুমান, শিশুদের দিয়ে সিগারেট আনান এই প্রধান শিক্ষক” শিরোনামে আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। প্রকাশিত সংবাদের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্যই  মিথ্যা , বানোয়াট, স্ববিরোধিতায় অসঙ্গতি সম্পন্ন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
(১) শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে সিগারেট আনানোর বিষয়টি সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। কারণ, শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় টুকিটাকি কাজ করার জন্য সার্বক্ষণিক একজন দপ্তরি আছে। ৪র্থ শ্রেণির যে ৩ জন শিক্ষার্থী সিগারেট আনার কথা বলেছে, পরে তাদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে – সাংবাদিকরা কোমলমতি শিশুদের ভয় দেখায়ে এমন কথা বলে নেন।
আমি একজন শিক্ষক, উচ্চশিক্ষিত এবং সামাজিক ব্যক্তি হিসেবে শিশুদের দিয়ে সিগারেট আনানো ঠিক কি না সেই জ্ঞান আমার আছে।
(২) সংবাদে উল্লেখ আছে যে – “আমি স্কুলেই যাই না এবং গেলেও কেবলমাত্র স্বাক্ষর করে চলে আসি, অর্থাৎ স্কুলে অবস্থান এ করি না।” স্কুলে অবস্থান ই না করলে শিশুদের দিয়ে সিগারেট আনালাম কখন আর তা পান করলাম কখন? প্রকাশিত অভিযোগ দুটির পরস্পরের স্ববিরোধিতাই প্রমাণ করে – এ অভিযোগটি মিথ্যা ও আমাকে হেয় করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
(৩) ‘শিক্ষার্থীদের দিয়ে আমি ভাত আনিয়ে নেই – এই অভিযোগটি অত্যন্ত হাস্যকর যা অভিযোগকারী ও সাংবাদিক মহোদয়ের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট মিথ্যে প্রতীয়মান করে। কারণ, আমার স্কুল থেকে আমার বাসার দূরত্ব ১৩ কিঃমিঃ । অর্থাৎ যাতায়াতে মোট ২৬ কিঃ মিঃ পথ অতিক্রম করে আমার বাসা থেকে ভাত নিয়ে আসার বিষয়টি পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
(৪) শিক্ষার্থীদের অভিভাবক হিসেবে ক্ষোভপ্রকাশকারী যে কয়েকজনের নাম সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে কেবল ‘নূর ইসলাম’ ই একজন অভিভাবক, অন্যরা নয়। এই নূর ইসলাম এবছর ম্যানেজিং কমিটি গঠনের সময় “অভিভাবক সদস্য” হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে উপস্থিত অভিভাবকদের সমর্থনের সংখ্যা গরিষ্ঠতায় হেরে যান এবং ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হতে না পারায় সৃষ্ট ক্ষোভের কারণে এমন মন্তব্য করেছেন। তার ধারণা আমি চাইলে তাকে সদস্য করতে পারতাম।
অপর ৩ জন ক্ষোভ প্রকাশকারী – তোয়াব হোসেন,মাহবুব ও মেহেদী হাসান যাদের কোন সন্তান এই বিদ্যালয়ে নেই।
এই তিনজন অভি্যোগকারী অত্র এলাকার মহিলা আসনের নির্বাচিত মেম্বার – আইরিন নাহার শিল্পি’র ভাই ও ভাতিজা।
এই আইরিন নাহার শিল্পি আমার স্ত্রীর আত্মীয়(বোন) অর্থাৎ আমার শ্যালিকা। আমার ও আমার শালিকার পরিবারের মধ্যে বিদ্যমান বিবাদের জের ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে এসব মনগড়া কথা বলেছেন।
(৫) জিয়াপুর উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মরত সকল শিক্ষকের মধ্যে মোঃ ফরিদ উদ্দীন নামে মাত্র একজন শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে যে মিথ্যে মন্তব্য করেছেন- তা তার ব্যক্তিস্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ায় সৃষ্ট ক্ষোভ ছাড়া আর কিছুই নয়। ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য নিকটতম উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে আমার সাবেক প্রঃ শিঃ ফরিদ সাহেবকে খসড়াভাবে মনোনীত করেছিলেন। কিন্তু তিনি (ফরিদ) বেশ কুটিল প্রকৃতির ও অযথা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী প্রকৃতির হওয়ায় আমি তাকে বাদ দিয়ে  ঐ স্কুলের সহকারি শিক্ষক জনাব বদিউজ্জামান কে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করায় আমার বিরুদ্ধে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেছেন – তার সময়ে আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেও ফল পান নি। অথচ ঐ সময়ের আমার প্রধান শিক্ষক বলেছেন – “তার চাপে আমি নিয়মের মধ্যে চলতাম।” যদি নিয়মের মধ্যেই চলে থাকি, তবে সভাপতি সাহেব কি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন ? তাদের স্ববিরোধী বক্তব্যই প্রমাণ করে যে সভাপতির বক্তব্য মিথ্যে।
সংবাদে উল্লেখিত ছাত্র/ছাত্রীর অতীত ও বর্তমান সংখ্যা সম্পর্কিত তথ্য ও ভুল। এ স্কুলে কখনোই প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী ছিল না।যখন এই এলাকায় অত্র বিদ্যালয়টিই একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল তখন কোন এক সময় ৪৮০ জন শিক্ষার্থী ছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়টির ক্যাচমেন্ট এলাকায় একটি মাদ্রাসা, দুইটী কেজি স্কুল ও দুইটি এন জি ও পরিচালিত স্কুলসহ মোট ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এক টির স্থলে ৬টি প্রতিষ্ঠান হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমবে এটাই স্বাভাবিক যদিও শিক্ষক শিক্ষার্থীর অনুপাত অনুসারে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি।
“স্কুলের পড়াশুনার নিম্নমানের কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম” – এমন মন্তব্যের উত্তরে বলা যায়, শিক্ষক শিক্ষার্থীর অনুপাত, বিদ্যালয় ক্যাচমেন্ট এলাকা ইত্যাদি বিষয়ে যাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে, তারাই কেবল ৫ জন শিক্ষকবিশিষ্ট স্কুলের অধ্যয়নরত ১৯১ জন শিক্ষার্থীকেও কম বলে মন্তব্য করতে পারেন।
আমি এই বিদ্যালয়ে যোগদানের পূর্বে পাশের হার ছিল ২০%-৪০%। অথচ বর্তমানে কর্মরত শিক্ষকগণের যোগদানের পর বর্তমানে পাশের হার ৯৫%-১০০% এবং ২-১ বছর পর পরই এখান থেকে বৃত্তি পাওয়ার ও রেকর্ড আছে।
আমার ১৬ বছরের চাকুরিজীবনে কখনো কোনদিন হাজিরা খাতায় অনুপস্থিতি, অনিয়মের কারণে বরখাস্ত হওয়া বা কোন কারণে শাস্তি পাওয়ার রেকর্ড নেই, যা প্রমাণ করে আমি চাকুরিবিধি সম্পূর্ণরূপে মেনে চলি।
অতএব, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ নয়, বরং স্কুল সংশ্লিষ্ট নয় এমন কিছু ব্যক্তিবর্গের উদ্ধ্রৃতিতে প্রকাশিত এ মিথ্যে সংবাদের আমি তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জ্ঞাপন করছি।স
দেশের কন্ঠ ২৪.কম/হান্নান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*