শিরোনাম
Home >> লীড নিউজ >> কালকিনিতে ভাসমান লাউ চাষ করে সাবলম্বী কৃষক ॥ বুলবুলে ব্যাপব ক্ষয়ক্ষতি সবজির বাগানে

কালকিনিতে ভাসমান লাউ চাষ করে সাবলম্বী কৃষক ॥ বুলবুলে ব্যাপব ক্ষয়ক্ষতি সবজির বাগানে

কালকিনি প্রতিনিধিঃ-মোঃ আতিকুর রহমান আজাদ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সার্বিক সহযোগীতায় উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নের চরপালরদী গ্রামের মোঃ শাহীন রাড়ী নামের একজন কৃষক ভাসমান লাউ চাষ করেছেন। তার বয়স এখন প্রায়-(৫৫) বছর। পরিবারে রয়েছেন ৩ছেলে মেয়ে সহ ৭জন সদস্য। তিনিই সংসারের উপার্জনের এক মাত্র অবলম্বন। তার উপার্জনের টাকায় চলে তার সংসার। শাহীন একজন পেশায় কৃষক। সে বছরের ১২ মাস এ কৃষি কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে সবজির মধ্যে তিনি লাউ উৎপাদন করেন বছরের ১২ মাস। এতে করে সে বছরে প্রায় দুই লক্ষাধীক টাকা আয় করে থাকেন। তার এ উপার্জনের টাকায় তার এক ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াচ্ছেন। আর এ লাউ চাষ করেই আজ তিনি সফল ও স্বাবলম্বী একজন কৃষক হিসেবে সমাজে পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি বর্ষাকালে ভাসমান লাউ ও বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করে থাকেন। এদিকে বুলবুলের আঘাতে তার এ সবজি বাগানের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সাশ্বতী ছন্দা দেবনাথ ও উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ সেলিম হোসেন সরেজমিন তদন্ত করেছেন। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত সফল কৃষক মোঃ শাহীর রাড়ীকে ক্ষতি পূরনরে আশ্বাস দেন তারা।
এলাকা ও মোঃ শাহীন রাড়ী সুত্রে জানাগেছে, তিনি লালশাক, আলু, বেগুন, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া প্রভৃতি সবজিও উৎপাদন করেন। তবে অধিক গুরুত্ব দেন লাউ চাষের প্রতি। কারণ এ সবজি প্রায় সারা বছরই উৎপাদন করা যায়। এতে লাভও হয় অনেক বেশি। তিনি বলেন, ‘মানুষ প্রবল ইচ্ছা, পরিশ্রম ও দায়িত্বশীলতার মধ্য দিয়ে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। আমি প্রথমে ঋণ নিয়ে ফসল উৎপাদন করে লোকসান পরেছি, কিন্তু পিছিয়ে যাইনি। মনোবল ধরে রেখে পরিশ্রম করে গেছি। চাকুরি ছাড়াও যে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, সেটা আমার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।থ তিনি জানান, এক বিঘা জমিতে লাউ আবাদ করতে খরচ হয় ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে এ থেকে সর্বোচ্চ একলক্ষ্য ৮০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। তার এ সফলতার পিছনে রয়েছে কৃষি অফিসের ব্যাপক অবদান। কারন তারা সার্বক্ষনিক তাকে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগীতা করে থাকেন।
শাহীনের সফলতায় এ অঞ্চলের অনেকেই এখন সবজি চাষে উৎসাহী হয়ে উঠছেন বলে জানান ওই গ্রামের আলাউদ্দিন, রশিদুল ইসলাম, নিরঞ্জন সরকারসহ বেশ কয়েকজন কৃষক। তারা জানান, তারাও কৃষিপণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। শাহীন রাড়ী তাদের কাছে অনুপ্রেরণা স্বরূপ। একসময় তিনি অভাবে দিন পার করতেন। এখন তার জমিতেই পরিচর্যার কাজ করেন অনেক শ্রমিক। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় সবজি চাষ হয়েছে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে। আর এ থেকে প্রায় ১০ হাজার টন সবজি উৎপাদন হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস জানান, ‘এ উপজেলার মাটির গুণাগুণ ভালো। এ অঞ্চলে শীতকালীন সবজি ছাড়াও বেশকিছু সবজি ১২ মাস উৎপাদন হয়। এর মধ্যে লালশাক, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, পুঁইশাক অন্যতম। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবসময় কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে আসছি।থ তিনি আরো জানান, ঘুর্নিঝড় বুলবুলে সবজি চাষিদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাই আমরা চেষ্টা করবো তাদেরকে সহযোগীতা করতে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*