Home >> দুর্ঘটনা >> এমপি লিটন হত্যা মামলার রায় ২৮ নভেম্বর

এমপি লিটন হত্যা মামলার রায় ২৮ নভেম্বর

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ-মোঃ ছামিউল ইসলাম
দেশজোড়া আলোচিত গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার যুক্তিতর্কের পালা শেষ হয়েছে। শুনানী শেষে আগামি ২৮ নভেম্বর রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালতের বিচারক। গত মঙ্গলবার বিকেল গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্র ও আসামী পক্ষের এই যুক্তিতর্ক শেষ হয়। আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক মামলার সাক্ষী ও আসামিদের উপস্থিতিতে দু’ পক্ষের আইনজীবিদের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করেন।
গত সোমবার দিন ব্যাপী আদালতে শুরু হওয়া যুক্তিতর্ক বিকেল পর্যন্ত চলে। প্রথমদিনে যুক্তিতর্ক শেষ না হওয়ায় মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিন প্রায় ৩ ঘণ্টা আদালতে যুক্তিতর্কে অংশ নেন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের আইনজীবিরা। যুক্তিতর্কের সময় আদালতে হত্যার মুল পরিকল্পনাকারী আসামি সাবেক এমপি কর্ণেল (অব:) আবদুল কাদের খাঁনসহ অভিযুক্ত ৮ আসামির মধ্যে ৬ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। জেলা কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তায় তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। যুক্তিতর্কের সময় মামলার সাক্ষী ও নিহতের স্বজনরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রাণসহ মামলার নানা দিক পর্যালোচনা করে আদালতে যুক্তিতর্ক তুলে ধরা হয়। যুক্তিতর্ক শেষে আগামি ২৮ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন বিচারক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের ফাঁসিসহ সর্বচ্চ শাস্তিহবে আদালতে’।
এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবি এ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ বলেন, এমপি লিটনকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে এ মামলায় আসামি কাদের খাঁনকে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা আসামিদের নির্দোষ দাবি করে আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, মামলার রায় সন্তোষজনক না হলে তারা উচ্চ আদালতের শরনাপন্ন হবেন।
আদালতে উপস্থিত ছিলেন নিহত এমপি লিটনের স্ত্রী ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। স্মৃতি জানান, এই রায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছি। আমরা সব আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই এবং তা যেন দ্রুত কার্যকর হয়।
২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল আলোচিত এ হত্যা মামলার সাক্ষগ্রহণ শুরু হয়ে তা শেষ হয় ৩১ অক্টোবর। এ পর্যন্ত আদালতে মামলার বাদি, নিহতের স্ত্রী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করে লিটনের বোন ফাহমিদা কাকলী বুলবুল। তদন্ত শেষে কাদের খাঁনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী বগুড়ার বাসা থেকে গ্রেফতারের পর থেকে কাদের খাঁন গাইবান্ধা জেলা কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া আসামি কাদের খাঁনের পিএস শামছুজ্জোহা, গাড়ি চালক হান্নান, ভাতিজা মেহেদি, শাহীন ও রানা জেলা কারাগারে রয়েছেন। তবে অভিযুক্তদের মধ্যে আসামি কসাই সুবল কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। এছাড়া ভারতে পলাতক রয়েছেন অপর আসামি চন্দন কুমার রায় । এছাড়া লিটন হত্যার ঘটনায় অস্ত্র আইন মামলায় গত ১১ এপ্রিল আবদুল কাদের খাঁনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেয় আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*