Home >> লীড নিউজ >> মানিকগঞ্জের ঘিওরের তেরশ্রীতে গণহত্যা দিবস পালিত 

মানিকগঞ্জের ঘিওরের তেরশ্রীতে গণহত্যা দিবস পালিত 

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ- আল মামুন 
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও তেরশ্রী গণহত্যা দিবস উদযাপন কমিটির সহযোগীতায় ২২ নভেম্বর শুক্রবার তেরশ্রী স্মৃতি স্তম্ভ প্রাঙ্গনে ঊনপঞ্চাশতম তেরশ্রী গণহত্যা দিবস পালিত হয়। সময় আটটায় জাতীয় পতাকা উওোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সুচনা হয়। পরে শহীদের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়  । আলোচনা সভায় এসময় বক্তব্য রাখেন –  মানিকগঞ্জ জেলা আ.লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যাড. গোলাম মহিউদ্দিন. জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস,ঘিওর উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার  আঃ আজিজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইরিন আক্তার.ঘিওর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ  হাবিবুর রহমান. পয়লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হারুন – অর রশিদ প্রমুখ।
তেরশ্রীতে উপজেলা  ঘিওরেতেরশ্রীতে ১৯৭১ সালের ২২ নভেম্বর নিহত ৪৩ জন শহীদদের স্মরনে নির্মিত হয়েছে স্মৃতি স্তম্ভটি। জানা গেছে,পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর এবং রাজাকার,আলবদর আলসামস বাহিনীর সদস্যরা ১৯৭১ সালে ২২ নভেম্বর বর্বোরচিত নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে তেরশ্রী গ্রামের তৎকালীন জমিদার সিদ্ধেশরী প্রসাদ রায় চৌধুরী এবং তৎকালিন তেরশ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমান সহ ৪৩ জন গ্রামবাসিকে গুলি করে এবং বেওনেটের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
তবে দুঃখ জনক হলেও সত্য,স্বাধীনতার ৪৮টি বছর অতিবাহিত হবার পরেও নিহতদের পরিবারের খোজ খবর কেউ রাখেনি। এবং কি বিচার হয়নি এই জঘন্যতম হত্যাকান্ডের। fতেরশ্রী গ্রামটি সাংস্কৃতিক মনা এবং বাম রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দু ছিল। মুক্তিযোদ্ধদের আনাগোনা ছিল জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর দোসররা টার্গেট করে এই গ্রামটিকে। গোপনে শিক্ষানুরাগী, মুক্তিযোদ্ধা,ভাষাসৈনিক, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবিদের তালিকা করে প্রস্তুত করে দালালেরা। নীল নকশা করে এই গ্রামটিকে ধ্বংস করার।
১৯৭১’ সালের ২২ নভেম্বর ভোরে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী ও দেশীয় রাজাকার ঘিরে ফেলে তেরশ্রী গ্রামের সেন পাড়ার কালি মন্দিরটি। ২১ নভেম্বর রাতে এদেশীয় দালালদের নিয়ে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী গোপনে একটি মিটিং করে তেরশ্রী গ্রামে সেনপাড়া কালিবাড়ী মাঠ প্রাঙ্গনে। তারা পরিকল্পনা করে ২২ নভেম্বর হত্যাযঞ্জের। ঘিওর থেকে সিধুঁনগর গ্রামের মধ্য দিয়ে শতাধিক পাকিস্থানি সেনা এদেশীয় ঘাতকদের সহযোগিতায় ভারি অস্ত্র  নিয়ে তেরশ্রী গ্রামে পৌছেঁ। বৃষ্টিরমত গুলি ছুড়তে থাকে নিরীহ গ্রামবাসীর উপর। এ সময় জমিদার সিদ্ধেশ^রী প্রসাদ রায় চৌধুরি , কলেজের অধ্যক্ষ আতিয়ার রহমান সহ ৪৩ জন গ্রামবাসীকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়।
তেরশ্রীতে ভয়াল ২২ নভেম্বর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আজ শুক্রবার সকাল আটটায় ঊনপঞ্চাশ তম তেরশ্রী গনহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*