Home >> রাজনীতি >> জয়পুরহাট যুবলীগ সভাপতি সুমন সাহা”র রাজনৈতিক জীবনীর পঞ্চম খন্ড প্রকাশ।

জয়পুরহাট যুবলীগ সভাপতি সুমন সাহা”র রাজনৈতিক জীবনীর পঞ্চম খন্ড প্রকাশ।

স্টাফ রিপোর্টারঃ- নিরেন দাস।
তৎকালীন ক‌লেজ ছাত্রলী‌গের সভাপ‌তি রানা কুমার মন্ডল(‌বর্তমান জেলা আওয়ামীলী‌গের শিক্ষা সম্পাদক) আর সাঃ সম্পাদক ফরহাদ হো‌সে‌নের(বর্তমা‌নে পৌরসভায় কর্মরত) নেতৃ‌ত্বে সেসম‌য়ের ছাত্রসমাজ কিছুটা উজ্জী‌বিত ছিল। জামালগন্জ থে‌কে একঝাঁক নি‌বে‌দিত ছাত্রনেতা-কর্মী,পুরান‌াপৈল থে‌কে কিছু সংখ্যক,ভাদসা ইউ‌পি থে‌কে,সুগার মি‌ল ও পাঁচ‌বি‌বি থে‌কে কিছু ছাত্র ক‌লে‌জের মি‌ছিল গু‌লো‌তে  যুক্ত হ‌ত। অার শহরকেন্দ্রীক যেমনঃ শা‌ন্তিনগর, প্র‌ফেসর পাড়া ও মাষ্টার পাড়ার কিছু দলপাগলরা যখন এক‌ত্রিত হ‌তাম তখন বেশ বড় মি‌ছিল হয়ে যেত। তারপর সে মি‌ছিল গু‌লো‌তে স্লোগান দি‌তে হ‌তো আমা‌কেই; আমার অনুপ‌স্থি‌‌তিতে ‌প্রিয় অগ্রজ জামালগ‌ন্জের বিনয় দা  ভাল স্লোগান দি‌তে পারত। ক‌লেজ রাজনী‌তি‌তে  ছাত্রদ‌লের কর্মী সমর্থক প্র‌য়োজ‌নের চাই‌তেও বে‌শি ছিল। নতুন হারা জিন্সপ্যান্ট,নতুন নতুন ম‌ডে‌লের হোন্ডা বাইক,গ‌র্বিত দা‌ম্ভিকতা,স‌র্বোপ‌রি তা‌দের চাক‌চিক্য চোঁ‌খে পরার মতই ছিল।তৎকালীন ছাত্রদ‌লের  নেতা‌দের প্রভাব আর ক্ষমতার অপব্যবহা‌রে নির্যা‌তিত হ‌য়ে কিছুটা কোনঠাসা ছিল ছাত্রলীগ তথা ছাত্রসমাজ। কোন অন্যা‌য়ের প্র‌তিবাদ করার ম‌তো সাহস কোন ছাত্রলীগ নেতা‌র ছিলনা। তা‌দের দাপ‌টে প্রভা‌বিত হ‌য়ে গ্রাম থে‌কে  আসা কিছু উচ্চ‌ভিলাসী ছাত্র/ছাত্রী তা‌দের সা‌থেই সক্ষতা গড়ে তুল‌তো সকল অ‌নৈ‌তিক সু‌বিধার অ‌ভিপ্রা‌য়ে অথবা ভাল থাকার অ‌ভিলা‌সে।
অন্য‌দি‌কে ছাত্রলী‌গের কমদামী পু‌রো‌নো ধা‌চের পোশাক আশাক, বাহারী সানগ্লাস ও হা‌তে রিস্ট‌লেট বিহীন অ‌নেকটা আনস্মার্ট ছাত্রলীগ নেতা‌দের ম‌হিলা কমনরু‌মে কোন জন‌প্রিয়তাই ছি‌লোনা। সেখা‌নে অবা‌ধে ছাত্রদ‌লের প্র‌বেশ ও শাষন প্র‌যোজ্য ছিল।ক‌লেজ প্রশাসনও নি‌র্বি‌ঘ্নে তা‌দের প্রশ্রয় দিত। ছাত্রলীগ নেতারা কর্মী‌দের জন্য এবং সাধারন ছাত্র/ছাত্রী‌দের জন্য কোন সু‌যোগ সু‌বিধা ক‌লেজ প্রশাস‌নের কাছ থে‌কে আদায় কর‌তে পার‌তনা। সু‌বিধা বল‌তে~‌বেতন ফুল ফ্রি,হাফ ফ্রি,‌সেসন ফি কমা‌নো,ফরম ফিলা‌পে গরীব মেধাবী‌দের জন্য কিছু অর্থ‌নৈ‌তিক ছাড় সহ নানা জায়গায় আমা‌দের কর্মীরা ব‌ঞ্চিত হ‌তো। প‌রিনা‌মে; যৎসামান্য কিছু কর্মী‌দের দ‌লের আদর্শ দি‌য়ে ধ‌রে রাখা খুব কষ্টসাধ্য ছিল।সরকার দলীয় কিছু বেয়াদবরা মা‌ঝে ম‌ধ্যেই গা‌য়েপ‌ড়ে ধাক্কা দি‌য়ে উ‌ল্টো দোষ দি‌য়ে বেদম প্রহার করত প্রকা‌শ্যে। কিন্তু  সাহস ক‌রে একটা প্র‌তিবাদ করা বা তা‌দের পাল্টা জবাব দেবার ম‌তো কোন সক্ষমতাই ছি‌লোনা ছাত্রলী‌গের। যে কর্মী‌টি নির্যা‌তিত হ‌লো তা‌কে সম‌বেদনা ছাড়া আর কিছুই দেবার থাকতনা আমা‌দের। এ অবস্থাদৃ‌ষ্টে পরবর্তী‌তে সেই  অ‌ভিমানী কর্মী‌কে  আমরা  হা‌রি‌য়ে ফেলতাম। লজ্জায় আর পড়াশুনাই কর‌তে আ‌সে‌নি ক‌লে‌জে; রাজনী‌তি‌তো দূ‌রের কথা! এ রকম নির্যাত‌নের অ‌নেক অ‌নেক ঘটনা আ‌ছে যা এই প‌রিস‌রে সম্ভব হ‌চ্ছেনা।
যাই‌হোক ক‌লে‌জে প্র‌তি‌দিন কতজন ছাত্রলী‌গের কর্মীর উপ‌স্থিতি তা আমা‌দের আ‌গেই  কাউন্ট হ‌য়ে যেত। তাই  টি‌ফি‌নের সময় যে যে ক্লা‌সে আমা‌দের কর্মী আ‌ছে সেখানকার দরজায় দাঁ‌ড়ি‌য়ে থাকতাম। যেন কেউ হাতছাড়া না হয়।প্রখর দৃ‌ষ্টি‌ রাখতাম কেই যেন অন্য দরজা দি‌য়ে পালা‌তে না পা‌রে।পালা‌নো দৃ‌ষ্টি‌গোচর হ‌লে  দৌঁড়‌দি‌য়ে সাম‌নে গি‌য়ে বু‌ঝি‌য়ে মি‌ছি‌লে নি‌য়ে আসতাম।যা‌দের অ‌নে‌কেই এখন বড় নেতা!!
ক‌লে‌জের নিচতলায় টাকা আদায় কাউন্টার ছিল। সেখা‌নে সেসন চার্জ,ফরম ফিলাম অথবা বেত‌নের টাকা জমা দি‌তে হ‌তো বিশাল লাইন ক‌রে। কিন্তু যারা ছাত্রদল কর‌তো তা‌দের লাই‌নে দাঁড়া‌নো লাগ‌তোনা।ও‌দের নেতারা কাউন্টা‌রের ভিত‌রে প্র‌বেশ ক‌রে সক‌লের আ‌গে তা‌দের জমারি‌সিভ ক‌পি নি‌য়ে নিত। পক্ষান্ত‌রে আমা‌দের নেতা‌দের কাউন্টার রু‌মে ঢোকার কোন অনুম‌তি মিলতনা।এমন প‌রি‌স্থি‌তি দে‌খে  সু‌বিধার লো‌ভে দলত্যাগ ক‌রে‌ছে অ‌নে‌কেই। অব‌শিষ্ঠ আদ‌র্শিক কিছু কর্মী কোনরকম সু‌বিধা না পে‌য়ে অকথ্য নির্যাতন সহ্য ক‌রেও প্রিয় দল‌কে ত্যাগ ক‌রে‌নি।
ক‌লে‌জে যখন ছাত্র সংসদ নির্বাচ‌নের তফ‌শিল ঘোষনা করা হ‌তো,তখন আমা‌দের চরম বিপা‌কে পর‌া লাগ‌তো।তখন ছাত্র সংস‌দে মোট প‌দের সংখ্যা ছিল ১৮ টি। সেই ১৮ জন প্রার্থী আমরা ম‌নোনয়ন  দি‌তে পারতাম না। অ‌নেক কাঠখ‌ড়ি পোড়া‌তে হ‌তো । বাসায় গি‌য়ে গি‌য়ে রি‌কো‌য়েষ্ট ক‌রে/হা‌তে পা‌য়ে ধ‌রে ম‌নোনয়ন ফর‌মে সই নি‌তে হ‌তো। সেখা‌নে শর্ত জু‌ড়ে দিত সই দি‌লেও প্যা‌নেল প‌রি‌চি‌তি অনুষ্ঠা‌নে অনুপ‌স্থিত থাক‌বে।কারন উপ‌স্থিত দেখ‌লে য‌দি নির্যা‌তিত হ‌তে হয়! অগত্যা মে‌নে নি‌তে হ‌তো। নি‌শ্চিত পরাজয় জে‌নে কে দাঁড়া‌তে চায় বলুন? তাই  দলীয় প্যা‌নেল প‌রি‌চি‌তি‌তে ১৮ জন প্রার্থী উপ‌স্থিত রাখ‌তে পা‌রতাম না আমরা। ক্ষমতা আর অ‌র্থের কা‌ছে আমা‌দের পর্যুদস্থ হ‌তে হ‌তো বারংবার। সেই  স্মৃ‌তিগু‌লো  স্মর‌ণে এ‌লে খুব খারাপ লা‌গে,‌বিমর্ষ হই, হৃদ‌য়ে ক্ষরন অনুভূত হয়।
চরম বিপর্য‌য়ের প্র‌তিকুল রাজনী‌তি‌তে সেসময় কিছু মানু‌ষের মূল্য‌বোধ প্রত্যক্ষ হ‌য়ে‌ছে। অপরিসীম ভা‌লোবাসায় সর্বস্ব উজার ক‌রে দেবার চেষ্টা করত। ‌যে‌দিন বাবার প‌কে‌টের টাকা গোপ‌নে নিজপ‌কে‌টে নেবার সু‌যোগ হ‌তো;‌সে‌দিন মি‌ছি‌লের আ‌গে ও প‌রে মা‌ঠে ব‌সে বাদামের আড্ডা চলত। একমাত্র বাদাম ছাড়া অন্য কোন ভা‌রি নাস্তা কর্মী‌দের জো‌টে‌নি।জুট‌বেই কি ক‌রে !! অভা‌বের সংসার। দল ক্ষমতায় ‌নেই,‌বি‌রোধী দল ব‌লে কথা!!প্রাত্য‌হিক মাত্র ১০ টাকা খর‌চের সামর্থও ছি‌লোনা নেতৃ‌ত্বে থাকা নেতা‌দের। এত অভাব আর সঙ্কটের ম‌ধ্যেও যারা বঙ্গবন্ধুর আদ‌র্শ  লালন ক‌রে‌ছে তা‌দের ত্যাগী না ব‌লে উপায় আ‌ছে?
সেই  ত্যাগী‌দের ম‌ধ্যে আজ অ‌নে‌কের কোন পদ‌চিহৃ পা‌র্টি অ‌ফি‌সে প‌রেনা। অ‌নে‌কে ক্ষুধার জ্বালায় অ‌ন্যের দ্বারস্থ্,‌দোকা‌নের কর্মচারী অথবা আরও অ‌নেক ছোট কাজ ক‌রে জীবন-জী‌বিকা নির্বাহ কর‌ছে।হটাৎ দেখা হ‌লে কথা ব‌লে অন্তত আমার সা‌থে। কেমন আ‌ছেন জি‌জ্ঞেস করার আ‌গেই  তা‌দের বুকফাটা ক‌ষ্টের আর্তনাদ ও হাহাকা‌রের কথা  শুন‌তে হয়। আর কি জি‌জ্ঞেস করা যায়,‌কেমন আ‌ছেন? বিব্রত হ‌লেও প্রস্থান কর‌তে পা‌রিনা তা‌দের অব্যক্ত কথাগু‌লি না শু‌নে। সে‌দিন একজন তো আমা‌কে ধ‌রে অ‌নেকক্ষন কাঁদল মে‌য়ের ফরম ফিলা‌পের টাকা যোগার কর‌তে না পে‌রে। কেউ কেউ ফোন ক‌রে করুণ গল্প শোনায় না খে‌য়ে থাকার অথবা বাসায় চাউল না থাকার।অ‌নেক সময় বিরক্ত হই,রাগ ক‌রি। পরক্ষ‌ণে অনুভব আ‌সে,উপায় কি? তাই নি‌জের সামর্থ মত খুব গোপ‌নে দেবার চেষ্টা ক‌রি এইসব দূ‌র্দি‌নের কর্মীদের।
‌এই যে আপনারা বড় বড় নেতা হ‌য়ে‌ছেন, আলাউ‌দ্দি‌নের অাশ্চর্য  চেরা‌গের কেরাম‌তি‌তে আঙ্গুল ফু‌লে কলাগাছ হ‌য়ে‌ছেন। আর কতটাকা হ‌লে আপনা‌দের মন ভর‌বে? আর কত চাই  আপনা‌দের? মানুষ কিন্তু আর বোকা নাই, সবাই  বো‌ঝে। কিন্তু কেউ কিছু বল‌‌তেছেনা। যখন বলা শুরু কর‌বে  তখন কিন্তু আর  থামা‌তে  পার‌বেন না।
রাজনী‌তির অবস্থাদৃ‌ষ্টে আপাদমস্তক সাংগঠ‌নিক নেতার অভাব সেসময় ছিলনা। অর্থ‌নৈ‌তিক অভাব থাক‌লেও ম‌নের উদারতা দি‌য়ে তা পূরণ ক‌রে দিত। আমা‌দের ছোট প‌রিস‌রে স্যেহার্দ ও সম্প্রী‌তির ঘাট‌তি ছি‌লোনা। ৯০ দশ‌কের রাজনৈ‌তিক বোদ্ধা‌দের হৃদয় পূর্ণ ছিল আদর্শ ও মু‌ক্তিযু‌দ্ধের ‌চেতনা দ্বারা। সে কার‌নে তা‌দের দর্শ‌নে স্থান পে‌য়ে‌ছিল দেশ‌প্রেম। যে নেতার হৃদ‌য় প্রেমযুক্ত;‌সে সবসময় স‌র্বোপ‌রি কর্মী‌দের অন্ত‌রে অন্তর্ভূক্ত। নেতৃত্ব য‌দি হৃদয় থে‌কে উৎসা‌রিত হয় তাহ‌লে সেটা ভাল নেতৃত্ব বৈ খারাপ হ‌বেনা। নেতৃ‌ত্বের বড় গুণ হ‌চ্ছে অনুধাবন।প্রকৃত অনুধাবন হ‌লে হৃদয় অনুর‌ণিত হয়। অনুর‌ণিত হৃদয় সমস্ত দেহ‌কে প্রভা‌বিত ক‌রে। তারপর দেহ ও মন সংযুক্ত হ‌য়ে প্রগ‌তির প‌থে সঞ্চা‌লিত হয়। এমন প‌রি‌স্থি‌তির যাত্রা ন্যায় ও স‌ত্যের পথেই গমন ক‌রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*