শিরোনাম
Home >> লীড নিউজ >> আক্কেলপুরে ফেন্সিডিল সহ আটক”কৌশকগত ভাবে ৩ জনকে সেবনের মামলা আরও ৩ জনকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ।

আক্কেলপুরে ফেন্সিডিল সহ আটক”কৌশকগত ভাবে ৩ জনকে সেবনের মামলা আরও ৩ জনকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ।

স্টাফ রিপোর্টারঃ- নিরেন দাস।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ২ বোতল ফেন্সিডিল সহ ৪ জন কে আটক করে প্রথমে ১ জনকে ছেড়ে দিয়ে পরেরদিন কৌশকগত ভাবে ৩ জনের বিরুদ্ধে মাদকসেবনের মামলা দেয়া সহ আরও ২ জন কে মাদক সহ পেয়েও অর্থের বিনিময়ে সুকৌশলে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এসআই আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে।
আটককৃতরা হলেন আক্কেলপুর পৌর সদরের ৮ নং ওয়ার্ড়ের মহাতাব উদ্দিনের ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম ওরফে থানার দাদাল নামে পরিচিত (ফুঁটাবাবু) (৪৬), রামশালা গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪২) ও শান্তা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম (৪০)।
এলাকাবাসীর অভিযোগ ও থানা পুলিশি সুত্রে জানা যায়, গত ১৯ নভেম্বর আনুমানিক সময় দুপুর পৌঁনে ২ টায় জয়পুরহাট থেকে আক্কেলপুরের উদ্দেশ্যে একই মোটরসাইকেল যোগে ২ বোতল ফেন্সিডিল নিয়ে ৪ জন আসার পথে পৌর সদরের কেচের মোড় এলাকায় মাদক বহন কারীরা পুলিশকে দেখে রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে তাদের কাছে থাকা ২ বোতল ফেন্সিডিল গুলো ফেলে দেয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে সেবনের চেষ্টা করলে উক্ত স্থান থেকে মাদক বহন ও সেবনের সময়ে হাতেনাতে মোটরসাইকেল থাকা ৪ জন কেই আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই পৌর সদরের উত্তরপাড়া গ্রামের পুলিশের সোর্স নামে পরিচিত এরশাদ নামের একজন মাদক ব্যবসায়ী কে ছেড়ে দিয়ে উপরে উল্লেখিত আটককৃত ৩ জন কে আক্কেলপুর থানায় নেয়া হলেও তাদের একদিন রেখে পরেরদিন বুধবার (২০ নভেম্বর) বিকেল ৩ টায় তাদের সুকৌশলে মাদক সেবন মামলায় জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অর্থের বিনিময়, সুকৌশল ও নাকি রহস্যজনক এমন অভিযোগ সাংবাদিকদের নিকট আসলে  বিষয়টি নিয়ে গোপন তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের তথ্যে পাওয়া যায় ওইদিন ঘটনাস্থলে থেকে এরশাদ কে ছেড়ে দিয়ে ২ বোতল ফেন্সিডিল সহ ওই ৩ জনকে আটক করে থানায় নেয়া হয়। পরে তাদের একদিন থানায় রেখে পরের দিন খালি ২ বোতল ফেন্সিডিল দেখিয়ে ৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের মামলা দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। পরে আরও জানা যায় ওই একই দিনে সকাল সাড়ে ১১ টায় পৌর সদরের আক্কেলপুর চারমাথা পেট্রোল পাম্প সংলগ্নে পৌর সদরের ৩ নং ওয়ার্ডের ফকিরপাড়া গ্রামের মোঃ আঃ সোবহানের ছেলে মোঃ আরমান হোসেন ও একই গ্রামের আব্দুর সামাদের ছেলে মোঃ সোহেল রানা কে কয়েক পুড়িয়া গাঁজা সহ তাদের হাতেনাতে আটক করেন থানার এসআই আব্দুল আলীম ও সাথে থাকা এসআই নজরুল, প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রের জানা যায় গাঁজা সহ তাদের হাতেনাতে আটকের কিছুক্ষণ পরেই স্থানীয় রাজনৈতিক একজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সুকৌশলে এসআই আব্দুল আলীম কে ম্যানেজ করলে তিনি গাঁজা সহ আটককৃত ওই ২ জন কেই ঘটনাস্থল থেকে ছেড়ে দেয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
এমন সুকৌশলে ম্যানেজ হয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে মাদক সেবনের মামলা ও ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে অভিযুক্ত গ্রেপ্তারকারী অফিসার আক্কেলপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আলীম এর সাথে আক্কেলপুর উপজেলা প্রেসক্লাব থেকে ২০ নভেম্বর বিকেলে তার 01710-828743 এ নম্বর মুঠোফোনে কল দিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাংবাদিকদের বলেন এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিষয়টি ওসি স্যার হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের কলটি কেঁটে দিয়ে তার মুঠোফোনটি বন্ধ রাখেন।
পরে বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচিত সৎ নিষ্ঠাবান আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবু ওবায়েদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমি তাদের যে অবস্থায় পেয়েছি সেই ভাবেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তিনি আরও বলেন আমি গোপীনাথপুরে একটি প্রোগ্রামে আছি ফ্রি হয়ে বিষয়টি আমি তদন্ত করে দেখবো।
অপরদিকে এসআই আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে এমন নানা আনিত অভিযোগ সহ প্রতিরাতেই তার নিজস্ব ব্যবহারিক মোটরসাইকেল টির চালক হয়ে থাকেন আক্কেলপুর ৪ নং পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপির শীর্ষ নেতা আমিনুর ইসলাম পল্টু মাঝখানে বসে থাকেন এসআই আব্দুল আলীম ও তার পিছনে বসেন  দেশীয় বাংলা মদের দোকানের কর্মচারী মফিজুল ইসলাম তারা প্রতিরাতেই মোটরসাইকেলে পৌর সদরে মোটরসাইকেল টহল সহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে আক্কেলপুর রেলস্টেশনে আড্ডা দেয়ার এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে। বর্তমানে এসআই আব্দুল আলীমের এমন বেপরোয়া প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনাটি আক্কেলপুর পৌর এলাকাবাসীর নিকট দিনদিন চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে যা ইতিমধ্যে সচেতন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*