Home >> লীড নিউজ >> পটুয়াখালী বাউফলে পেঁয়াজের গায়ে আগুন; জনমনে ক্ষোভ

পটুয়াখালী বাউফলে পেঁয়াজের গায়ে আগুন; জনমনে ক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃএম.জাফরান হারুন

পটুয়াখালী বাউফল উপজেলার হাট বাজারে পেঁয়াজের দামবেড়ে এমন হয়েছে যেন পেঁয়াজের গায়ে আগুন। হাত দেবার মত নয়। জনমনে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০০ থেকে ২২০ টাকা করে বিক্রেতারা বিক্রি করছে। গত তিনদিন আগে বিলবিলাস বাজার, নওমালা বাজার ও কালাইযা বাজারে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছিল! আজ সোমবার ( ১৮ নভেম্বর) কালাইযা বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করা হচ্ছে। এতে তিনদিনের মাথায় বাড়ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পেঁয়াজ কিনতে এসে যেমনি খুচরা ক্রেতা তেমনি খুচরা বিক্রেতারাও জিব্বা কামড় দিয়ে মাথায় হাত দেয়। তবুও ক্রেতাদের চাহিদাতে পেঁয়াজ ক্রয় করতে হচ্ছে খুঁচরা বিক্রেতাদের। উপজেলায় প্রশাসনের কোন মনিটরিং না থাকায় এক এক বাজারে একাধিক দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছে এক অসাধু ব্যবসায়ীরা।

প্রতি সোমবার দক্ষিণ অঞ্চলের ও উপজেলার বড় বাজার কালাইযাতে কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। উপজেলার বিলবিলাস বাজারে গত শনিবার বিকালে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।

উপজেলার কালাইযা বাজারের একাধিক আড়ৎদার বলেন, আমাদের মোকাম ফরিদপুর। যেখান থেকে আমরা প্রায় আড়ৎদারেরা পেঁয়াজ পাইকারি কিনে আনি। সেখান থেকে এই কালাইযা পর্যন্ত কেনাসহ আসতে আসতে ২০০ টাকার উপরে পরে যায়। আবার ৬০কেজির বস্তায় প্রায় ৮ থেকে ১০ কেজিই পঁচা থাকে। বস্তায় দেড় থেকে ২কেজি কম থাকে। এর পরও ২২০ টাকা দরে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে গেলে অনেক মন্দ শুনতে হয়। বিভিন্ন মন্তব্য করে। এই জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি এরপর আর পেঁয়াজই ক্রয় করবো না বিক্রয়ও করবো না।

বিলবিলাস বাজার ও কালাইযা বাজারে কয়েকজন ক্রেতারা ক্ষোভ নিয়া বলেন, মহিলারা এহন চান্দের বাতি হইয়া গ্যাছে যেন পেইচ (পেঁয়াজ) ছাড়া রানতেই (রান্নাই) পারে না। এহন  কি করমু দাম বেশি হইলেও পাওয়া (২৫০ গ্রাম) হানে বা আধা কেজি পেইচ (পেঁয়াজ) ১১০ টাহা দিয়ে কিনছি।

কালাইযা বাজারে আবুল কালাম নামে এক ক্রেতা বলেন, কি কি দ্যাকতে আইছেন। তামশা দ্যাকতে আইছেন। এই রোমের পেইচে দাম এগুলা কি প্রশাসনের চোখে পরেনা। আমাগো মোতো সাধারন মানুষেরে লইয়া মজা করতে আছেন না!

পাশ থেকে আরেক ক্রেতা বলেন, ভাই পেইচ (পেঁয়াজ) কিনা আনলে পরিবারের মধ্যে ঝড়গাও লাগে। স্বামী কয় পেইচ (পেঁয়াজ) খাওন লাগবেনা  স্ত্রী কয় তাহলে পেইচ (পেঁয়াজ) ছাড়া তুমি রান্দো (রান্না) কর।

এবিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পিজুস চন্দ্র দে বলেন, এব্যাপারে অবশ্যই মনিটরিং করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*