Home >> দূনতি >> স্ত্রী-পুত্রের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দোয়ারাবাজারে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারিককে খুন

স্ত্রী-পুত্রের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দোয়ারাবাজারে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারিককে খুন

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধিঃ-এনামুল কবির

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা স্বামীকে খুনের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী-পুত্রই ফেঁসে যাচ্ছেন। কলেজে পড়–য়া ছেলে মিলন মিয়ার (১৮) সহযোগিতায় লোহার শাবল (বড় রড) দিয়ে পিটিয়ে নিজ স্বামী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারিক (৭৫)কে খুন করেছেন বলে ১৬১ ধারায় পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ঘাতক আছিয়া খাতুন (৬০)।
নৃসংশ লোমহর্ষক এ ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে। নিহত মুক্তিযোদ্ধা ওই গ্রামের মৃত মুসলিম উদ্দিনের পুত্র।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ছেলে মিলনকে নিয়ে রোববার সকাল ১০টার দিকে প্রথমে বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করেন পাষন্ড স্ত্রী আছিয়া। পরে দুপুর ১২টার দিকে মা-ছেলে লাশ নিয়ে থানায় হাজির হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারিককে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন। এ সময় মা-ছেলে পুলিশকে জানায়, একই গ্রামের কালাশাহ ও তার লোকজন আব্দুল বারিকের মাথায় আঘাত করে তাকে খুন করেছে। পুলিশ এসময় তাদের সাথে থাকা নিহতের ৭ বছরের নাতি শাহিনকে আলাদা কক্ষে নিয়ে কথা বলেন। শাহিন পুলিশকে জানায়, তার দাদী আছিয়া ও চাচা মিলনের সঙ্গে দাদার ঝগড়া ও মারামারি হয়েছে। তখন তারই দেওয়া তথ্য মতে মা ও ছেলেকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ নিহত বারিকের বাড়িতে গিয়ে একটি রক্তমাখা লোহার শাবলসহ কিছু আলামত উদ্ধার করেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমিরুল হক উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আলামত দেখে ও প্রত্যক্ষদর্শীর কথা শুনে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারিককে তার স্ত্রী আছিয়া ও তার ছেলে মিলনই খুন করেছে বলে উপস্থিত সকলেই নিশ্চিত হয়েছেন।

এ সময় স্থানীয়রা জানান, নিহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারিকের সঙ্গে একই গ্রামের কালাশাহ, রকিব মিয়া ও হান্নান মিয়ার জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ ছিল দীর্ঘদিনের। এরই জের ধরে ২০১৯ সালে দু’পক্ষের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষ কালাশাহ’র জামাতা (মেয়ের স্বামী) আফিজ আলী খুন হন। ওই মামলায় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারিকের বড় ছেলে শাহবাজ মিয়া বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। তাই প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই পরিকল্পিতভাবে মক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারিককে খুন করা হতে পারে বলে তারা জানান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দোয়ারাবাজার থানার ওসি আবুল হাশেম বলেন, রোববার রাতে নিহতের ছেলে মাসুক মিয়া বাদী হয়ে সৎমা আছিয়া খাতুন ও সৎ ভাই মিলন মিয়াকে আসামি করে দন্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে দোয়ারাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা (নং- ০৩) দায়ের করেছেন। সোমবার আটক মা ও ছেলেকে সুনামগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে ওসি জানান।
এদিকে নিহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারিকের মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে সোমবার বিকালে রাস্ট্রীয় মর্যাদায় তার নিজ গ্রাম সুলতানপুরে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*