" /> ঠাকুরগাঁওয়ে  ধামের গানের অপেক্ষায় গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা – desharkantho24
শিরোনাম
Home >> বিনোদন >> ঠাকুরগাঁওয়ে  ধামের গানের অপেক্ষায় গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা

ঠাকুরগাঁওয়ে  ধামের গানের অপেক্ষায় গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ-মুনসুর আহমেদ

বাংলাদেশের উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁও  জেলা একটি প্রত্যন্ত অঞ্চল। এ অঞ্চলে বিনোদনের জায়গা খুব একটা নেই। এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষগুলো বিনোদনের জন্য নিজস্ব উদ্যোগে ১৯ দশকের আরও আগে থেকে আয়োজন করতো যাত্রাপালা, জারি গান, ও লক্ষীর ধামের আসরের। কিন্তু কালের পরিবর্তনের সাথে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐত্যহ্যবাহী ধামের গান সহ এসব উৎসব। এসব আয়োজনে খরচ ব্যয় বহুল হওয়ার কারনে এবং সরকারিভাবে তেমন সহযোগিতা না পাওয়ার কারনে হারিয়ে যাচ্ছে ধামের গান। তাছাড়া ইন্টারনেটের যুগে এসব আসর আর মনে ধরেনা এ প্রজন্মের উঠতি বয়সি ছেলে মেয়েদের। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের এখনো প্রবীন কিছু মানুষ শুধুমাত্র বছরের এক আধবার বিনোদের জন্য অপেক্ষায় থাকে ধামের গানের জন্য। ভিলেনের অট্ট হাসির চিৎকার, নায়কের ডায়লগ, নায়িকার মুচকি হাঁসি আর জোকারের উম্মাদনায় মেতে থাকতে দলে দলে এই আসরে

আসছে গ্রামাঞ্চলের প্রবীন এই মানুষগুলো। এ প্রজন্মের কিছু ছেলে মেয়েকেও দেখা গেলেও তাদের সংখ্যা অনেক কম।ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আক্চা ইউনিয়নে কাশিডাঙ্গা গ্রামে গিয়ে দেখা মিলল এমন চিত্র একটি ধামের গানেরর আসরে। স্থানীয় যুবকরা বলছে, প্রবীন জনগোষ্ঠীর অনেকেই বিনোদনের জন্য ধামের গানের অপেক্ষা করে থাকে। আমরা স্থানীয় ভাবে চাঁদা তুলে বছরে এই ধামের আসরের আয়োজন করে থাকি। আগে এ অঞ্চলে অনেক ধামের গানের আয়োজন করা হতো। সরকারি ভাবে কোন অনুদান পেলে আমরা আরও সুন্দর করে এই আয়োজন করতে পারবো। ধামের গানের এক শিল্পী (নাম বলতে অনিচ্ছুক) জানান, যারা আয়োজক তারা কোন রকম ভাবে এসব আয়োজন করে থাকে। আমরা তেমন পারিশ্রমিক পাইনা। শুধু মাত্র শিল্পকে ভালোবাসি বলেই নিজস্ব খরচে মাঝে মাঝে এসব আসরে আসি। আমাদের অনেক সঙ্গীই অর্থের অভাবে এসব কাজ ছেড়ে চলে গেছেন। সামাজিক ও সরকারি ভাবে আমরা যদি সহযোগিতা পেতাম তাহলে আমাদের খুব উপকার হতো। এই ধামের গানের পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক ও আক্চা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কুলুরাম রায় বলেন, লক্ষীর ধাম গ্রাম বাংলার একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। দিনে দিনে শুধু মাত্র অর্থের অভাবে এসব ধাম বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। গ্রাম বাংলার অনেক প্রবীন মানুষ বিনোদনের জন্য ধামের অপেক্ষায় থাকে। তাদের কথা চিন্তা করেও এই ধামের আয়োজন আমরা স্থানীয় ভাবে করে থাকি। এমনিতে বাংলার সংস্কৃতি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এই সংস্কৃৃৃৃতি গুলো ধরে রাখা প্রয়োজন। তাই সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। যেনো এসব বাংলার ঐতিহ্যবাহী আয়োজন গুলো সহযোগিতা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*