শিরোনাম
Home >> লীড নিউজ >> পীরগঞ্জে পারুল বেগমের অসহায় মানবেতর জীবন যাপন চোখে পড়ার মত

পীরগঞ্জে পারুল বেগমের অসহায় মানবেতর জীবন যাপন চোখে পড়ার মত

 

 পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ঃ-মুনসুর আহম্মেদ

ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ছোট ভেলাতৈড় গ্রামের পারুল বেগমের অসহায় মানবেতর জীবন যাপন
করছেন। তার সম্পর্কে পীরগঞ্জ পৌর শহরের এমন কেউ নে যে, তাকে চিনে না। তাকে চিনে পাগলী বাংরি নামে। পারুল বেগমের পরিবার ছিল, বাবা-মা, ভাই-বোন সবই ছিল। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার নিয়তির নিমর্ম পরিহাস। পারুল বেগমের জীবনে এনে দিয়েছে মানবেতন জীবন যাপন। পিতা আব্দুর রহমান, মায়ের নাম শাহাদা বেগম  ভাইয়ের নাম খোপা। সংসারের মধ্যে পারুল বড় কন্যা ভাই ছোট। দীর্ঘ দিন ধরে শহরের বিভিন্ন চায়ের দোকান, ভাতের হোটেল সামনে এমনকি রাস্তার পাশে সুয়ে থাকতে দেখা যায় এই পারুল বেগমকে। পারুল বেগমের নেই কোন আশ্রয় নেওয়ার মত জায়গা।

বিভিন্ন জায়গায় রাতকা রাত দিনকা দিন কেটে গেছে তার জীবনে। মানুষ যা দেয় তা থেকে তার দিন চলে যায়। আষাড়ারের ঝড়ের মত হয়ত বা পারুল বেগমের জীবনেও ঝড় এসেছিল। সেই জীবন তাকে মানববেতর জীবনে পৌঁছে দিয়েছে। এখন পারুল বেগমের গায়ে কি ঝড় কি বৃষ্টি কন কনের শীতের ঠান্ডাও তার গায়ে অনুভব হয় না।
শীতের দিনে বা বৃষ্টি দিনে চায়ের দোকান বন্ধ করার পর ঐ চায়ের দোকানের মাটির চুলোর উপর একটু গরম তাপ নেওয়ার জন্য সাড়াটি রাত কাটিয়ে দেয় চুলোর উপর। পারুল বেগমের জীবনে প্রচন্ড গরম বলতে কিছু নেই। লাগে না তার ফ্যানে বাতাশ এমনকি হাত পাখাও লাগে না। এভাবে দিনের পর দিন দুবেলা দু মুঠোর পেটের ক্ষুদা নিবারণের জন্য এখানে ওখানে শহরের আনাচে কানাচে দেখা যায় তাকে। যদি কোন স্ব- হৃদয়বান ব্যক্তির চোখে পরে তাহলে এগিয়ে যান তার কাছে। কেউ হয়ত ভিক্ষুক মনে করে নিজের সাধ্যমত ২ টাকা ৫ টাকা বা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে থাকেন। ভিক্ষা করা তার পেশা না সে ভিক্ষুক না, সে ভিক্ষা করে না। যার বিকেকে নাড়া দেয় সেই তার কাছে গিয়ে সামান্য কিছু হয়ত দেয়। এত গেল পারুল বেগমের মানবেতর জীবন যাপন। সরকারের দেশগড়াতে নানান উদ্দেগ্য। শহর হতে গ্রাম পর্যন্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হয়েছে।শিক্ষা ব্যবস্থারও তুলনা হয় না। ভিক্ষা মুক্ত দেশ গড়তে প্রধান মন্ত্রীর মহৎ উদ্দ্যোগ অনেক ভিক্ষুকের জীবন বদলে দিয়েছে। কিন্তু বদলেনি পারুল বেগমের মত অনেকের জীবন। পারুল বেগমের সাথে সরাসরি কথা হলে, সে তার পুর্ণাঙ্গ ঠিকানা দিতে একটু ভুল করেনি। হয়ত বা ভুলও হতে পারে। তবে একজন স্বাভাবিক মানুষকে যে ভাবে জিজ্ঞাসা করলে তার ঠিকানা বলে পারুলও সে ভাবে বলেছে। তবে তার ঠিকমত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হলে সে স্বাভাবিক মানুষের মত ফিরে আসবে। বদলে যাবে তার এই করুন মানবেতর জীবন-যাপন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*