শিরোনাম
Home >> লীড নিউজ >> কালিয়াকৈরে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারীর পন্য

কালিয়াকৈরে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারীর পন্য

কালিয়াকৈর(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ-মোঃ দেলোয়ার হোসেন
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ও পৌরসভার বাজার পাড়া মহল্লায় ছোট বড় দোকান থেকে শুরু করে ফাষ্টফোডের দোকান ও নামিদামি বেকারী গুলোতে বিক্রী হচ্ছে কেক,হরেক রকমের বিস্কুট,চানাচুর,পাউরুটি,বাটারবন,মিষ্টি,সন্দেশ,ক্রিমরুল,পেট্রিস, ড্যানিস,টোষ্ট বিস্কুটসহ নানা প্রকার বাচ্চাদের লোভনীয় ও
মুখরোচক সব খাবার। কালিয়াকৈর উপজেলার শতভাগ কারখানা গুলোতে এ সব খাবার তৈরি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে। সরেজমিনে গিয়ে এ সব বেকারি কারখানা গুলো ঘুরে দেখা গেছে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। প্রতিটি কারখানার ভিতরে স্যাঁতসেঁতে অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে ভেজালসহ নিন্মমানের সব উপকরন দিয়ে অবাধে তৈরি করা হচ্ছে
বেকারীর সকল প্রকার সামগ্রী। কারখানার অভ্যন্তরে যেখানে তৈরি করা খাবার রাখা আছে সেখানেই ময়দা, আটার গোডাউন পাশে রাখা আছে জালানি কাঠও। সাথে রয়েছে মানব দেহের ক্ষতিকারক কেমিক্যাল

এর পাশেই ছড়ানো ছিটানো আছে নানা প্রকার তৈরি সব খাদ্যপন্য। এ সব খাদ্যপন্য তৈরির জন্য আটা ময়দা প্রক্রিয়াজাত করানো কড়াইগুলোও রয়েছে অপরিস্কার ও নোংরা। যে সব কর্মচারীরা এসব পন্য তৈরি করছেন তাদের শরীর থেকে ঝরছে ঘাম। ওই অবস্থায় কর্মচারীরা খাদ্য তৈরির উপকরন নাড়াচারা করছেন আর শরীরের ঘাম বেয়ে পড়ছে খাদ্য তৈরির উপকরনের মধ্যে। ডিমের খাঁিচগুলোতে দেখা গেছে ভাংগা পচা ডিম যা অনেক কম দামে কেনা হয় বাজার থেকে। নিন্মমানের ডালডা দিয়ে তৈরি করা ক্রিম রাখা পাত্রগুলোতে হাজার হাজার মাছি বসে ভন ভন করছে। প্রত্যেকটি কারখানায় উৎপাদন ও

মেয়াদোত্তীর্ন তারিখ ছাড়াই নানা প্রকার অভিযাত ব্রান্ডের আদলে কড়া এসব বাহারি মোড়কে কেক,হরেক রকমের বিস্কুট, চানাচুর, পাউরুটি, বাটারবন, মিষ্ট, সন্দেশ, ক্রিমরুল, পেট্রিস,ড্যানিসসহ বিভিন্ন প্রকার বেকারী সামগ্রী বিএসটিআই এর অনুমোদন ছাড়াই উপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। উপজেলার চন্দ্রা ত্রি-মোড়ের ডাইনকিনি রোডে
তিতাস বেকারী এন্ড ফাষ্টফোড,ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের বাউন্ডারি ওয়াল ঘেসে শহিদুল ইসলামের মা মদিনা বেকারী, বাজারের কাঠপট্রি এলাকায় মায়ের দোয়া বেকারী এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরী, বিসমিল্লাহ বেকারীসহ পাশাপাশি তিনটি বেকারী রয়েছে ফুলবাড়ীয়া বাজারে। ফুলবাড়িয়া বাজারের তিনটি বেকারীতে অত্যান্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কয়েকদিনের পুরোনো বিষাক্ত তৈল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে সকল প্রকার বেকারী পন্য। এ ছাড়াও সফিপুর বাজার, আন্দার মানিক, হরিন হাটি, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, দাড়িয়াপুর, মৌচাক, রাখালিয়া চালা, কালিয়াকৈর বাজার, বাড়ই পাড়া হ্যাসং বিডি গেট এলাকায় ইমরান বেকারী এন্ড ফাস্টফুড, বলিয়াদি বাজারসহ ছোট বড় প্রায় ১৫/২০টি বেকারী নানা প্রকার বাচ্চাদের লোভনীয় ও মুখরোচক সব খাবার সামগ্রী তৈরির কারখানা রয়েছে। কালিয়াকৈর বাজার বাস ষ্ট্যান্ড এলাকায় শিলাবৃষ্টি মার্কেটে মা মদিনা ফুড গার্ডেনের ট্ধসঢ়;্রাকষ্ট্যান্ড এলাকায় রয়েছে নিজস্ব বেকারী কারখানা। এ বেকারী কারখানায় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারী পন্য। ওই কারখানার কেক খেয়ে প্রায় একই পরিবারের
১২জন অসুস্থ্য হয়। প্রতিদিন অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে এসব কারখানার তৈরি পন্য ফজরের
নামাজের পর পরই কোম্পানীর নিজস্ব ভ্যানে করে বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লায়,অলিগলির ছোটবড় জেনারেল ষ্টোর, মোদি দোকান ও চায়ের দোকানে ওই সব বেকারী পন্য পৌছে দেন ডেলিভারিম্যানরা। বিভিন্ন ফাষ্টফোড ও চায়ের ষ্টলে গিয়ে দেখা যায়, মা মদিনা বেকারী, মায়ের দোয়া বেকারী এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরী, বিসমিল্লাহ বেকারী, তিতাস বেকারী, দয়াল খাজা বাবা বেকারী, ফাইভ স্টার বেকারীসহ বিভিন্ন বেকারীর মোড়কে একাধিক পলি প্যাকেটে ঝুলছে পাউরুটি, কেক,
বাটারবন, ডেনিস, ক্রিমরুলসহ অন্যান্য খাদ্য পন্য। তিতাস বেকারী, দয়াল খাজা বাবা বেকারী,ফাইভ স্টার বেকারীসহ সকল বেকারীর তৈরি এ স বেকারী সামগ্রী পাউরুটি, কেকসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর মোড়কে বিএসটিআই,বিডিএস-৫০৬,বিডিআই-৪৮৩ এমন ভাবে বিভিন্ন
নম্বর লেখা রয়েছে। মোড়কের গায়ে এ সব লেবেলে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ন কথাগুলি লেখা থাকলেও কত তারিখে উৎপাদন হয়েছে আর কত তারিখে মেয়াদ শেষ হবে তার কোন উল্লেখ নেই। ফুলবাড়ীয়া বাজারে
মা মদিনা,বিসমিল্লাহ,মায়ের দোয়াসহ তিনটি বেকারীপন্য তৈরি কারখানা ঘুরে দেখা যায় ফ্যাক্টরীর উৎপাদিত বিস্কুটসহ নানা প্রকার তৈরি খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেটে একটিতে প্রস্তুতকার হিসেবে ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করলেও অপর দুই কারখানার নেই কোন লেবেল। মায়ের দোয়া কারখানায় বিস্কুটের প্যাকেটে লেবেল থাকলেও তাতে উৎপাদন এবং মেয়াদ
উর্ত্তীনের তারিখ লেখা নেই। কারখানার ম্যানেজারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়েকদিন হলো লেভেল শেষ হয়ে গেছে তাই দেয়া হয়নি। স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন যাবত ফুলবাড়ীয়া বাজারে অবস্থিত তিনটি বেকারী অত্যান্ত নোংরা পরিবেশে এ সব বেকারীপন্য তৈরি করছে দেখার যেন কেও নেই। ব্যস্ততম এলাকা চন্দ্রা ত্রি-মোড়ে জাতির
পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারী কলেজের পিছনে ডাইনকিনি রোডে তিতাস বেকারীতে গিয়ে দেখা যায় সবচেয়ে বেশী অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বেকারী পন্য তৈরি করছে। চা দোকাদার রহিজ উদ্দিন জানায়,আমরা গরিব মানুষ, ফুটপাথে চা-পান বিক্রী করে কোনমতে সংসার চালাই। বেকরীর তৈরি দেয়া এসব জিনিসে উৎপাদনের তারিখ দেখার সময় নাই। আর এসব দোকনের ক্রেতারা তো আর এসব জিজ্ঞেস করেনা। গত কয়েক মাস আগে কালিয়াকৈর বাস স্ট্যান্ড এলাকার মা মদিনা ফুড
গার্ডেনের কেক খেয়ে ১২ জন অসুস্থ্য হলে ভোক্তভোগী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন। এর দুই একদিন পরে কালিয়াকৈর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে অভিযান না চালিয়ে বাড়ই পাড়া এলাকায় একটি কেক তৈরি কারখানায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সিলগালা করে দিলেও অভিযুক্ত মা মদিনা ফুড গার্ডেন ও তাদের বেকারী পন্য তৈরি কারখানার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। ফুলবাড়িয়ায় স্থানীয় একাধিক সচেতন ব্যক্তিরা জানান, ফুলবাড়িয়া বাজারে বেকারীর পন্য ছাড়াও ভাতের হোটেল, মিষ্টি তৈরির কারখানা
গুলোতেও অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করলেও দেখার যেন কেও নেই। দীর্ঘদিন যাবত উপজেলা প্রশাসনের এ ব্যাপারে কোন প্রকার তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। উপজেলা প্রশাসনের অফিসের কিছু অসাধু
কর্মচারীর সাথে বেকারী মালিকদের একটা যোগসাজস রয়েছে বলেও জানান তারা। আর এ কারনে এ সব বেকারীতে অভিযান চালানো হয় না বলে জানান তারা। ডাইনকিনি এলাকার সাব্বির হোসেন জানান, তিতাস বেকারী
দীর্ঘদিন যাবত নিন্মমানের উপকরন দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করে আসছে বেকারীসব পন্য। জনবসতি পূর্ন এলাকায় এ ভাবে নিন্মমানের খাদ্য সামগ্রী তৈরি করে আসলেও প্রশাসনের নেই কোন নজরদারী। নাম
প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যাক্তি জানান ফুড ইন্সপেক্টও মাঝে মাঝে এসে মাসোয়ারা নিয়ে যায় বেকারী মালিকদেও কিছুই বলে না। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুল আমিন জানান, খাদ্য নীতিমালা অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*