শিরোনাম
Home >> লীড নিউজ >> পটুয়াখালীর বাউফলে দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুনীতি.

পটুয়াখালীর বাউফলে দুর্যোগ সহনীয় ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুনীতি.

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ- এম.জাফরান হারুন
পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারী খরচে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে গরিবদের ৩১টি ঘর নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুনীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঠিকাদার তার ইচ্ছেমতো কাজ করছেন। ব্যবহার করছেন নিম্নমানের সামগ্রী।

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুর্যোগ সহনীয় গৃহনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বাউফল উপজেলায় ৩১ দরিদ্র পরিবারকে চলতি বছর ৩০ জুনের মধ্যে ঘর নির্মাণ করে দেয়ার কথা। প্রতিটি ঘর দুই কক্ষ বিশিষ্ট হবে। ২০ ফুট লম্বা ও পাশ হবে ৮ ফুট। চারপাশে হবে ইটের দেয়াল, উপরে টিনের ছাউনি। ছাউনিতে মেহগনি অথবা কড়াই কাঠ ব্যবহার করতে হবে। গৃহের মেঝেতে তিন ইঞ্চি ঢালাই হবে। রান্নাঘর ও টয়লেট হবে ১৩ ফুট। ইট হবে এক নম্বর, ছাউনির টিন হবে পয়েন্ট ৪৬ মিলিমিটার পুরত্বের রঙিন ঢেউটিন। ঘর ও রান্নাঘরের মাঝখানে সাত ফুট করিডোর থাকবে। যার উপরে থাকবে টিনের ছাউনি। ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫শ’ ৩১ টাকা করে ৩১টি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ লাখ ১৪ হাজার ৪শ’৬১ টাকা।

এই গৃহনির্মাণ প্রকল্পের উপজেলা কমিটির সভাপতি হলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সদস্য সচিব হলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও। আর প্রতিটি ঘরই একটি প্রকল্প। প্রতিটি ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি থাকবে। ওই কমিটি ঘর নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন।

আগামী ১৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সারাদেশের সব ঘর একযোগে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান অথবা ইউপি সদস্য অথবা গণ্যমান্য ব্যক্তি থাকবেন কমিটির সভাপতি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাউফল পৌরসভার সাহাপাড়া গ্রামের পুষ্প রানী নামের এক গরিব মহিলাকে একটি ঘর দেয়া হলেও তার ঘরটি এখন পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়নি। অথচ ৩০ জুনের মধ্যে তার ঘরটি নির্মাণ করে দেয়ার কথা। বাউফল ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামের রাবেয়া বেগমের ঘরের প্রায় ষাট ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ওই ঘরের নির্মিত ইটের খুঁটির অবস্থা এতই নাজুক হালকা ধাক্কা দিলেও নড়ে। দরজা ও জানালায় ব্যবহার করা হয়েছে পুরাতন টিন। টিনের ছাউনির নিচে ব্যবহার করা হয়েছে উষার চাম্বুল কাঠ।

রাবেয়া বেগম বলেন, ‘ভিক্ষা করে সংসার চলে তার। এরপরেও ঘর নির্মাণের কাজে নিয়োজিত চার শ্রমিককে ১৭-১৮ দিন খাওয়াতে হচ্ছে তাকে’।

স্থানীয় এক নির্মাণ শ্রমিক বলেন, ঘরের ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে ভিটে বালু। নিম্নমানের ইট দিয়ে গাঁথুনি দেয়া হয়েছে । ছয়শ’ কেজি বালুর সঙ্গে দেয়া হয়েছে ৫০ কেজি সিমেন্ট। এই ঘরের স্থায়িত্ব এক বছরের বেশি হবে না।

ঠিকাদার মোঃ কামরুল বলেন, ‘৩১টি ঘরের মধ্যে ২৩টি ঘর তিনি নির্মাণ করছেন। তার ২৩টির মধ্যে ১৮টি ঘরের নির্মাণ কাজ চলছে। বাকি পাঁচটি ঘরের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। সব কাজ সঠিক নিয়মেই করা হচ্ছে।

এবিষয়ে বাউফল উপজেলা নিরবাহী অফিসার (ইউএনও) পিজুস চন্দ্র দে বলেন, এই ঘর প্রকল্পে কোন প্রকার অনিয়ম দুনীতি চলবে না।  এজন্য আমরা সরবদা সজাগ রয়েছি । আর যে অভিযোগ পেয়েছি তা পরযবেক্ষন করে ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*