শিরোনাম
Home >> লীড নিউজ >> এদের নিয়ে কেহ ভাবনা নাই, এরা সমাজেরর অবহেলিত

এদের নিয়ে কেহ ভাবনা নাই, এরা সমাজেরর অবহেলিত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

সমাজের সব থেকে নিকৃষ্ট মানুষ হিসেবে এদের দেখা হয়, আসলে কি কেউ একটু ভাবছে এদের অবস্থান এবং অবস্থা-জীবিন সংসার,সন্তান,স্বামী এদের পরিচয় কি?সমাজে কত মানুষ আছে কেসিনোর মতন। ভুয়া-অন্যায় ভাবে রাত্রে দিনে শত হাজার কোটি টাকা বানায়। আর এরা লাজ লজ্জা ফেলে দেহ বিক্রি করে  জীবন জীবিকা নিবারন করে। আমার এক বন্দুর নাম সোহেল মাহামুদ,একটা বন্ধ আড্ডা ৯৫ আইডিতে ছবি পোষ্ট করে এতে অনেকে ক্ষিপ্ত হয়ে সোহেলকে বহু কথা বলে। আসলে কি এই ছবিটার কথা একটু নিবিরে চিন্তা করছে এটার করুন কাহিনী কেউ্?

ওদের পরিবারের আয়রোজগারের পথ করে দিয়েছিল নারী পুনর্বাসন সংস্থা থেকে। দুদিন পর শুনতে পেলাম, যে লোক এত ভালো ভালো কথা বলে মেয়েটাকে বিয়ে করে নিয়ে গেল সেই তাকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করাচ্ছে। সেই কারণে পরের দিকে নারী পুনর্বাসন সংস্থার উদ্যোগেই বলুন, মহিলা পরিষদের উদ্যোগেই বলুন, পতিতাদের বিয়ে দেয়ার চাইতে তার চিকিৎসা, তার বিকল্প অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, তার বাচ্চার লেখাপড়া এসব কাজই আমরা করেছি। এখনো করছি।
পতিতাদের পুনর্বাসন করতে গিয়ে পতিতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন কঠিন বাস্তব সত্যের মুখোমুখি হয়েছি যে, নিজেরাই বুঝেছি এ ধরনের পুনর্বাসন আসলে ওদের জীবনে ইতিবাচক হবে না। ওদের কঠিন প্রশ্নের মুখে কোনো উত্তর দিতে পারিনি। ফিরে এসেছি। ব্যাপারগুলো এত সহজ না।
সারাটা জীবন মেয়েদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে থাকলাম। অথচ এখন দেখছি যে ভুলগুলো জীবনের শুরুতেই কাজের মধ্য দিয়ে জেনেছিলাম, আজ এত বছর পর সেই ভুল পথেই যেন আমরা হাঁটছি। ভাসা–ভাসা ধারণা নিয়ে, মূল সমস্যা অনুধাবন না করে, উপরে উপরে ‘দরদ’ দেখিয়ে পতিতা পুনর্বাসন হয় না।
আর সবচেয়ে দুঃখজনক কথা, এত বড় একটা ঘটনা ঘটল, মেয়েগুলোর ওপর এত বড় অন্যায় করা হলো অথচ একটা পুরুষ মানুষ মুখ খোলে না?’

বলছিলেন সুফিয়া কামাল। কথা বলতে কষ্ট হয়, বিছানার ওপর কিছুক্ষণ বসে থাকলেও ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এক গ্লাস পানি খেতে হলেও যঁাকে মাথার কাছে বালিশের পাশে রাখা ছোট্ট ঘণ্টাটা বাজাতে হয়, সেই মানুষটা খাটের পাশে স্তূপ করে রাখা দৈনিক পত্রিকাগুলোর দিকে কাতর চোখে তাকিয়ে বললেন—‘আজকাল সাহসী লোকেরা সাহস বুকে চেপে ঘরে বসে থাকে। যোগ্য লোকেরা সাত-পাঁচ ভেবে কোনো কিছুতে জড়াতে চায় না। এভাবে হবে? সমাজে এত লোক অথচ একটা পুরুষ মানুষের যেন কিছু যায় আসে না? কেউ মুখ ফুটে অন্যায়ের প্রতিবাদ করল না। প্রতিকারের পথ দেখাল না। মেয়েদের পক্ষে দাঁড়াল শুধু মেয়েরাই। মেয়েরা নিজেরাই প্রতিবাদ করছে। মিছিল করছে। কিন্তু এই মেয়েরা তো শুধু প্রতিবাদই করতে পারবে। প্রতিকারের ক্ষমতা তো এদের হাতে নাই।’ শরীরের কাছে তো হেরেছি অনেক আগেই। নতুন করে আর কী খারাপ হবে? কিন্তু ভাবছি সারাটা জীবন রাস্তায় থেকেই অন্যায়ের প্রতিবাদের শামিল হলাম। মেয়েদের যেন সমাজ ‘মানুষ’ হিসেবে দেখে সেই চেষ্টা করে গেলাম। অথচ আজ শেষবেলায় এসে দেখছি কিছুই করে যেতে পারিনি। এত বড় অন্যায় মেয়েগুলোর ওপর হচ্ছে একটা পুরুষ মানুষ মুখ খুলছে না। উল্টো তামাশা দেখছে সবাই। বড় ক্লান্ত লাগছে। এতটা পথ হাঁটলাম, অথচ মনে হচ্ছে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে আছি…।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*