শিরোনাম
Home >> লীড নিউজ >> রিফাত হত্যার চার্জশিট মিন্নিই “মূল ষড়যন্ত্রকারী”

রিফাত হত্যার চার্জশিট মিন্নিই “মূল ষড়যন্ত্রকারী”

মোঃ রাজু রায়হান, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি সহ ২৪ জন আসামির বিরুদ্ধে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন আদালত। বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী সোমবার বিকেলে ১২৩২ পৃষ্ঠার অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন।অভিযোগ পত্রে বাদী সহ মোট ৭৫ জনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। এছাড়াও তদন্তে প্রাপ্ত ৫০ প্রকারের আলামত অভিযোগপত্রের সাথে জমা দেয়া হয়েছে।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যমতে বয়সের ভিত্তিতে দাখিল করা দুই খণ্ডের অভিযোগপত্রের প্রথম খন্ডে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ১০ জন আসামী রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে রিফাত ফরাজীকে ১নং আসামি করা হয়েছে!! দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে ১৪ জন কিশোরের নাম। এতে রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই রিশান ফরাজীকে ১নং আসামি করা হয়েছে। মিন্নির জামিন শুনানীর জন্য বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলার মূল নথি রয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে থেকে মূল নথি আসার পর বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগের উপর শুনানি শেষে আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করলে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে সূত্র জানায়।

অভিযোগপত্রের সাথে যা আছে : আদালত সূত্রে জানা যায়, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার পুলিশের দাখিল করা মূল অভিযোগপত্র দুটি খণ্ডে মোট ৩৪ পৃষ্ঠার । এর প্রথম খণ্ডে মিন্নি সহ অন্য ১ জনের বিরুদ্ধে একটি খণ্ড ১৬ পৃষ্ঠার এবং কিশোর অপরাধীদের অভিযোগ পত্র ১৮ পৃষ্ঠার। এ ছাড়াও ১৫ জন আসামির ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও মামলায় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬১ ধারায় বিভিন্ন সময়ে পুলিশের গ্রহণ করা ৭৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ৫০ টির বেশি আলামতের জব্দ তালিকা ও বিভিন্ন সময়ে আসামিদের ব্যবহৃত মুঠোফোনের কল ডিটেইলস অভিযোগপত্রের সাথে আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।

যেসব আলামত জব্দ করেছে পুলিশ : অভিযোগপত্রের সাথে আলামত হিসেবে একটি স্যামসাং ও একটি ধূসর রঙের অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন, হত্যায় ব্যবহৃত রামদা, বন্ড ০০৭ গ্রুপের সদস্যদের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের প্রোফাইল ছবির একটি স্ক্রিনশট, ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাসের কপি, ১২ কপি স্ক্রিনশট, বন্ড ০০৭ গ্রুপের ১১ জন সদস্যের প্রোফাইল ছবির ১১টি স্ক্রিনশট, বন্ড ০০৭ গ্রুপের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে দেয়া ১১ জন সদস্যের ম্যাসেজের ১১ কপি স্ক্রিনশটের প্রিন্টেড কপি জমা দেয়া হয়েছে।

মামলায় মিন্নির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ ও আলামত জমা দেয়া হয়েছে : তদন্তকারী কর্মকর্তা রোববার বিকেলে আদালতে ২৪ জন আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দাখিল করেছেন এর প্রথম খণ্ডের অভিযোগ পত্রে ৭ নম্বর আসামি করা হয়েছে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে। এতে মিন্নির বিরুদ্ধে ‘হত্যার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে রিফাত হত্যার আগে ও পরে মিন্নির সাথে ঘাতক নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজির সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও অভিযোগপত্রে রিফাতকে নয়ন বন্ডরা কুপিয়ে জখম করার পরও মুঠোফোনে যোগাযোগ ও নয়ন বন্ডের সাথে মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে মিন্নির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিরপীতে নয়ন বন্ডের মায়ের নামে নিবন্ধিত একটি সিম গোপনে মিন্নি ব্যবহার করত এমন অভিযোগ এনে ওই নম্বরের সাথে নয়ন বন্ডের বিভিন্ন সময়ে কল লিস্ট ও কল ডিটেইলস জমা দিয়েছেন। এছাড়াও আলামত হিসেবে নিহত নয়ন বন্ডের বাসা থেকে জব্দ স্যালোয়ার কামিজ, আই ভ্রু, মিন্নির ছবি, মাথা আচড়ানো চিরুনি, চিরুনিতে পেচানো নারীদের চুল জমা দেয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রের বিবরণীতে অধিকাংশ জায়গায় মিন্নির বিরুদ্ধে রিফাত হত্যায় ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছে।

রিফাত শরীফ হত্যার মূল কারণ হিসেবে যা দেখানো হয়েছে অভিযোগপত্রেঃ- রিফাত শরীফকে হত্যার মূল কারণ হিসেবে, রিফাত শরীফের সাথে বিয়ে পরবর্তী নয়ন বন্ডের সাথে মিন্নির সম্পর্কে সৃষ্ট বিরোধীতার জেরেই রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে মিন্নি ও নয়ন বন্ড এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে। বিবরণীতে বলা হয়, প্রথমে মিন্নি নয়নকে বিয়ে করে। বিষয়টি গোপন রেখে ফের রিফাত শরীফকে বিয়ে করে মিন্নি এবং নয়ন বন্ডের সাথে গোপনে যোগাযোগ ও বাসায় যাতায়ত অব্যহত রাখে। এ নিয়ে রিফাত শরীফের সাথে মিন্নির দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সবশেষ হেলাল নামের এক যুবকের কাছ থেকে রিফাত শরীফের মুঠোফোন কেড়ে নেয়া থেকে নয়নের সাথে রিফাতের দ্বন্দ্ব চুড়ান্ত রূপ নেয় এবং সবমিলিয়ে মিন্নি ও নয়ন বন্ড মিলে রিফাত শরীফকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এসব অভিযোগে মিন্নির বিরুদ্ধে ১২০-বি (১) ধারায় অপরাধ সংগঠিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর ভূবন চন্দ্র হাওলাদার দন্ডবিধি আইনের ১২০-বি (১) ধারা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধারায় কেউ অপরাধ সংগঠিত করলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাবাস বা দুই বছর বা ততোধিক, সশ্রম কারাদণ্ডে দন্ডিত হতে পারেন। আদালত অপরাধ বিবেচনায় এর যে কোনো একটি শাস্তি দিতে পারেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ূন কবিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি অভিযোগপত্রের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানাতে রাজি হননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*