শিরোনাম
Home >> লীড নিউজ >> মাটি ও বাঁশের তৈরী খেলনা বিক্রয় করে স্বাবলম্বী উমা কান্ত রায়

মাটি ও বাঁশের তৈরী খেলনা বিক্রয় করে স্বাবলম্বী উমা কান্ত রায়

ফুলবাড়ী প্রতিনিধিঃকমল চন্দ্র রায়

অভাবের তাড়নায় ছোট বেলায় পরিবারের হাল ধরতে হয় পার্বতীপুর উপজেলার ফকিরা বাজারের উমা কান্ত রায় কে। পরিবারে ৩ ভাই ২ বোনের মধ্যে উমা কান্ত রায় সবার বড় ভাই। বড় সংসারে সবার ভরন পোষন যোগাতে বাবাকে অনেক কষ্ট করতে হত। স্বাভাবিক ভাবে সংসারে অভাব অনটনে বাবাকে অর্থ যোগান ও সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরে আনতে ১৬ বছর বয়সেই হালধরতে হয় উমা কান্ত রায় কে। বাবা কৃষক হওয়ায় প্রথমে কৃষি কাজেই সাথে সর্ম্পৃক্ত হয়।
কৃষিতে সফল না হওয়ায় উমা কান্ত রায় নিজেই মাটির ঢোলগাড়ি (টমটম) তৈরী করে হাট বাজার ও বিভিন্ন মেলায় বিক্রয় করে। ভালো লাভ হওয়ায় ধীরে ধীরে মাটি ও বাঁশের সংমিশ্রনে বেহালা তৈরীর সিন্ধান্ত নেন। বেহালা তৈরীতে যে পরিমান খরচ হয় তার চেয়ে লাভের পরিমান ভালো হওয়ায় ৫৫ বছর বয়সেও চালিয়ে যাচ্ছেন উমা কান্ত রায়। উমা কান্ত রায় তার ছেলে-মেয়ে কে রংপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুলে পড়া লেখা করাচ্ছেন। সংসারে অভাব মিটিয়ে স্বাছন্দে জীবন যাপন করছে পাশাপাশি ছেলে মেয়েকে পড়াশোনার খরচও দিতে পারছেন।
উমা কান্ত রায় দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের উৎপল কান্ত রায় এর প্রথম পুত্র। মা-বাবার মৃর্ত্যুর পর সংসার নিয়ে পৈত্রিক ভিটাতেই বসবাস করছে।

মা কান্ত রায় এর সাথে কথা বললে জানান, আমি এখন আর মাটির বাটি তৈরী করি না। বিভিন্ন কুমার পাড়াতে পাইকাড়ি বিক্রয় হয় । সেখান থেকে একশত বাটি ক্রয় করে বাঁশের বাতা দিয়ে ফ্রেম ঢোলগাড়ি (টমটম) ও বেহালা তৈরী করি। একটা বেহালা তৈরীতে যা খরচ হয় সেটা বাজারে বিক্রয় করে ভালোই লাভ হয়। প্রতিদিন তার তৈরি টমটম গাড়ী , বাশেঁর বেহালা জেলা- উপজেলা শহরে বিক্রয় করে ৫থেকে৭ শত টাকা দৈনিক আয় হয়। তা দিয়ে আমার ছেলে মেয়ে পড়াশোনার খরচ মিটানো ও আমার পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাছন্দেই দিন পার করছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*