শিরোনাম
Home >> লাইফস্টাইল >> জয়পুরহাটে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এক শিক্ষার্থী হাসপাতালে থানায় অভিযোগ দায়ের।

জয়পুরহাটে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এক শিক্ষার্থী হাসপাতালে থানায় অভিযোগ দায়ের।

স্টাফ রিপোর্টারঃ- নিরেন দাস।
জয়পুরহাট শহরের আরাম নগর হাফেজিয়া মাদ্রসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার হওয়া মাদ্রসার তৃতীয় শ্রেনির  ছাত্রকে তার স্বজনরা উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন।  বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষক মাদ্রাসা বন্ধ করে পালিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক মাদ্রাসার ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, জয়পুরহাট শহরের আরাম নগর এলাকার এই  মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত ১৪/১৫ জন শিশু। এসব শিশুদের সবাই জেলা শহরসহ আশ পাশের বিভিন্ন অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের সন্তান।
মাদ্রাসার আবাসিক  শিক্ষক আইয়ুব আলী জয়পুরহাট জেলার পার্শ্ববর্তী নওগাঁর ধামুইরহাট উপজেলার কামিয়া ডাঙ্গা গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে।  শিক্ষক আইয়ুব আলী প্রতি রাতে শিক্ষার্থীদের আরবী শেখাতেন।  শোবার সময় তার বিছানায় প্রায় প্রতি রাতে এক এক জন শিশুকে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করতেন।
এরই ধারাবাহিকতায় জেলা শহরের মাদারগঞ্জ এলাকার দরিদ্র ভ্যানচালকের শিশু পুত্রকে  ভয় দেখিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে তাকে যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছেন।  এমতাবস্থায় গুরুতর অসুস্থ শিশুটি পালিয়ে বাড়ি এসে ঘটনাটি মা বাবাকে বলে দিলে তারা ওই শিশুকে রোববার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেন।
জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মুবিনুল ইসলাম মুবিন জানান, রোববার দুপুরে শিশুটি কে হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ‘শিশুটির মলদ্বারে ক্ষত রয়েছে এবং এটি যে, বিকৃত যৌন নির্যাতন এতে কোন সন্দেহ নেই।
ধর্মীয় শিক্ষকের এমন কূকীর্তি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ধিক্কার জানাতে। তারা শিক্ষক আইয়ুব আলীর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন।  আরাম নগর এলাকার সাবু ইসলাম, সোহাগ হোসেনসহ অন্যান্যরা জানান, এমন বিকৃত যৌন ক্ষুদার মাত্র দু’ চার জন ধর্মীয় শিক্ষকের কারনে আলেম সমাজ বিব্রত বোধ করছেন। এই শিক্ষকের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচার করা হোক এমন দাবী করেন এলাকাবাসী।
জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) রায়হান হোসেন জানান, এ ব্যাপারে অসুস্থ শিশুটির বাবা জয়পুরহাট সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটন করে।  তবে আসামী পলাতক থাকায় তাকে এক্ষুনি গ্রেফতার করা না গেলেও যত শিঘ্র সম্ভব তাকে গ্রেফতার করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*