শিরোনাম
Home >> লীড নিউজ >> পায়রা-লোহালিয়া নদীতে জাটকা নিধনের মহোৎসব বিক্রি হচ্ছে গ্রাম্য হাট-বাজারে

পায়রা-লোহালিয়া নদীতে জাটকা নিধনের মহোৎসব বিক্রি হচ্ছে গ্রাম্য হাট-বাজারে

সোহাগ হোসেন দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার সীমান্তবর্তি পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে জাটকা নিধনের মহোৎসব চলছে। মাৎস্য আইন অগ্রাহ্য করে একশ্রেণীর জেলেরা প্রতিনিয়ত নদীতে কারেন্ট জালে জাটকা নিধনের উৎসবে মেতে উঠেছে। কারেন্ট জালে ধরা এসব জাটকা ইলিশ নদীর তীরবর্তি হাটবাজার এমনকি উপজেলা শহরের বিভিন্ন হাটবাজার গুলোতে প্রশাসনের সামনেই বেচা-কেনা হচ্ছে। সরকার ঘোষিত মাৎস্য আইনে ৯ ইঞ্চির কম দীর্ঘ জাটকা ইলিশ শিকার, পরিবহন ও বেচা-কেনা নিষিদ্ধ হলেও কেউ তা মানছে না। খোদ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরাও এ বিষয়ে কোন রা’ করছে না। আর এ কারনেই পার্শ্ববর্তি পায়রা-লোহালিয়া, পান্ডব, কদমতলা নদীতে সম্প্রতি জেলেরা জাটকা নিধনে মেতে উঠেছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, উপজেলার লেবুখালী ফেরীঘাট, পাতাবুনিয়া বাজার, মুরাদিয়ার বোর্ড অফিস বাজার, চরগরবদি ফেরীঘাট, পাঙ্গাশিয়ার ধোপার হাট, হাজির হাট, রাজগঞ্জ খেয়াঘাটসহ প্রত্যন্ত এলাকায় পায়রা-লোহালিয়া নদীর তীরবর্তি হাটবাজার ও ঘাট গুলোতে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় জেলেরা তাদের নিধনকৃত জাটকা ইলিশ পাইকারদের কাছে ও খুচরা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার ছাপিয়ে উপজেলা শহরের পিরতলা বাজারেও এখন প্রকাশ্যেই জাটকা বিক্রি হচ্ছে। এক শ্রেণীর পাইকাররা জেলেদের কাছ থেকে পাইকারী এনে অফিস পাড়া ও বিভিন্ন দোকানে ঘুরে ঘুরে ফেরি করে বিক্রি করছে। উপজেলা শহরের পিরতলা বাজারে বিক্রি হওয়া জাটকা ইলিশ সাধারন ক্রেতাদের পাশাপাশি প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদেরও ক্রয় করতে দেখা গেছে। সূত্রটি আরও জানায়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে পায়রা, লোহালিয়া, পাতাবুনিয়া নদীতে জাটকা নিধন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করলেও তা বেশীর সময়েই ফলাফল শূণ্য হয়। আগে থেকেই খবর পেয়ে জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে সটকে পরায় প্রতিটি অভিযানই ব্যর্থ হয়। হাজির হাটের ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ আকন অভিযোগ করে জানান, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র জেলেদের কাছ থেকে আদায়কৃত চাঁদার টাকায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবাধেই জাটকা নিধন চলছে। লতিফ আকন আরও জানান, এ এলাকার জেলেদের জালে ধরা পরা জাটকা প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় হাজির হাট গদিতে ও খুচরা বাজারে বিক্রি হয়। কিছু পাইকার জেলেদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে ফেরি করে বিক্রির করছে।
দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মনিরুজ্জামান চাঁদা আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশ প্রশাসনের একক ভাবে কিছুই করার নেই। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে এ ব্যপারে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহন করতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: সাইয়েদুজ্জামান বলেন, প্রতি মাসেই অভিযান চলছে। সাম্প্রতিক পায়রা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৫হাজার মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়েছে। জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার তথ্যটি সম্পূর্ন মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। আগের কথা বলতে পারবো না। আমার সময়ে কোন রকম দূর্নীতির প্রশ্রয় দেয়া হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*