শিরোনাম
Home >> লীড নিউজ >> জয়পুরহাট টিটিসি”তে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন অধ্যক্ষের শ্যালক

জয়পুরহাট টিটিসি”তে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন অধ্যক্ষের শ্যালক

স্টাফ রিপোর্টারঃ- নিরেন দাস
জয়পুরহাট কারিগরি প্রশিক্ষন কেন্দ্র (টিটিসি) তে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত এ প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে পরিচালনা করছেন অধ্যক্ষের জ্যৈষ্ঠ শ্যালক মোঃ ওয়াসিম মিয়াঁ। অথচ তার শ্যালক সরকারি ভাবে এ প্রতিষ্ঠানের তিনি কোন দায়িত্বেই নেই। মোঃ ওয়াসিম মিয়াঁর বিনা কথায় ও তার কাছে তদবীর না করায় কোন কাজ হয়না এ (টিটিসি) প্রতিষ্ঠানটি তে। এমনকি অধ্যক্ষের শ্যালক ওয়াসিম মিয়াঁ দুই মাস মেয়াদী ড্রাইভিং কোর্সের ছাত্র হয়েও নিজে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছে বলেও অভিযোগে বেড়িয়ে আসে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন প্রশিক্ষনার্থীদের সারা বছরের খাবার পরিবেশন সহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন অধ্যক্ষের শ্যালক ওয়াসিম মিয়াঁ।তার শ্যালক এর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাকে নানা ভাবে হয়রানী করা হয়ে থাকে।
এদিকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে মোটর ড্রাইভিং উইথবেসিক মেইনটেন্যান্স কোর্সে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর-২০১৯ সেশনের দুটি শিফটে (৫ ম) ও (৬ ষ্ঠ) ব্যাচে ৪০ জন এবং ২০২০ সেশনের জানুয়ারী-এপ্রিল দুটি শিফটে ৪০ জন কে (৭ ম) ও (৮ ম) ব্যাচে অগ্রিম ভর্তির রেজাল্টও দেওয়া হয়েছে। এখানে মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসা ৩০/৩৫ জন পরিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভাল মৌখিক পরীক্ষা দিয়েও কোর্সে তাদের চান্স মেলেনি। প্রকৃত যোগ্যতা সম্পন্ন মেধাবীদের না নিয়ে নেওয়া হয়েছে অধ্যক্ষের পছন্দ মত প্রার্থীদের। তাই প্রকৃত যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের দাবী নতুন করে মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে সঠিক নিয়ম অনুসারে রেজাল্ট প্রকাশ হোক।
জয়পুরহাটের এ কারিগরি প্রশিক্ষন কেন্দ্র (টিটিসি) প্রতিষ্ঠানটিতে সাংবাদিকরা সরেজমিনে গেলে তারা উপস্থিতি টের পেয়ে অধ্যক্ষ প্রকৌঃ দেলোয়ার উদ্দীন আহমেদ তার অফিসে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গিয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন। পরে তার অধীনস্থ এক ইন্সট্রাক্টর (রাজস্ব) জি.এস সুলতান আল-আমীন জানান, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে আমার অধ্যক্ষ স্যার পালিয়ে গিয়েছেন। এই অধ্যক্ষ আগের অধ্যক্ষের কাছ থেকে দায়িত্ব লিখিত ভাবে বুঝিয়ে না নিয়ে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে তিনি নিজের ইচ্ছা মত প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অধ্যক্ষ কখন অফিসে আসে,কখন তিনি অফিস থেকে চলে জান তা কেউ জানেনা। তার পরিবর্তে শ্যালক ওয়াসিম মিয়াঁ কে দিয়ে অফিসের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করিয়ে নিয়ে থাকেন।
এছাড়া তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ড্রাইভিং এর মৌখিক পরীক্ষায় আমাকে না নিয়ে যারা রাজস্বর বাহিরে সেই তার মনোমত শিক্ষক দিয়ে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহন করেছেন। অধ্যক্ষ মৌখিক পরীক্ষায় থাকার কথা থাকলেও তিনি একবার এসেই চলে যান। তাছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় বহিরাগত লোক জনদের কেউও রেখেছিলেন। পরে তিনি নিজেই রেজাল্ট শীট তৈরী করে ফেসবুক এবং অফিসের দেওয়ালে লাগিয়ে দেয়। এসব ঘটনা সঠিক কিনা তা অফিসে লাগানো সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখলে সব বেড়িয়ে আসবে।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আমি অধ্যক্ষের বিভিন্ন ধরনের অন্যায় কাজে প্রতিবাদ করায় আমাকে লোক দ্বারা মারার হুমকি দেয় এবং আমাকে বিভিন্ন ভাবে লাঞ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে আমি জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক এর কাছে লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করেছি। এছাড়া অধ্যক্ষ ৪০ দিন আগে প্রশিক্ষনার্থীদের বৃত্তির ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা তুলে এনে তার পকেটে রেখেছেন।
জয়পুরহাট কারিগরি প্রশিক্ষন কেন্দ্রের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন কর্মচারী জানান, এই অধ্যক্ষ আসার পর আমাদের কর্মচারীদের উপর বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার চলে। এমনকি আমাদের বেতনের টাকা থেকেও তাকে সন্তুষ্ট করতে হয়।
এদিকে টিটিসি’র প্রশিক্ষনার্থী আব্দুর রাহিম, শাহ জলিল রাসেল সহ অনেকে সাংবাদিকদের কাছে জানান, আমরা এই ক্যাম্পাসের মধ্যে মোটর ড্রাইভিং শিখি। শুধু ক্যাম্পাসের ২০০ গজ জায়গায় ড্রাইভিং স্টেয়ারিং ধরা শিখায়। আমাদের কে বাহিরে নিয়ে গিয়ে ড্রাইভিং শেখানোর কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষতা করে না। তাহলে আমরা কি ভাবে ড্রাইভিং শিখব-?
এছাড়া কয়েক জন মেয়ে প্রশিক্ষনার্থীরা জানান, এই টিটিসি’তে প্রশিক্ষন নিতে এসে আমরা কিছুই শিখতে পারিনি। সরকারী ভাবে যে খাবার দেয়া হয় তাও অতি নিম্ন মানের। এই খাবারের দায়িত্বে থাকেন অধ্যক্ষের শ্যালক ও তার স্ত্রী।
এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা বারবার অধ্যক্ষ প্রকৌঃ দেলোয়ার উদ্দীন আহমেদ ও তার শ্যালক ওয়াসিম মিয়াঁর বক্তব্য নিতে চাইলে তাদের দুজনেরই  মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, এ কারিগরি প্রশিক্ষন কেন্দ্র (টিটিসি”র) অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ আমার কানে এসেছে। এবার এ অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষন ব্যুরো”র পরিচালক মোঃ নুরুল ইসলাম মুঠো ফোনে সাংবাদিকদের জানান, ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সকল অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*