শিরোনাম
Home >> দূনতি >> মানিকগঞ্জের গিলন্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়ম

মানিকগঞ্জের গিলন্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়ম

আল মামুন – ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি ঃ
মানিকগঞ্জে ৪৭ নং গিলন্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের থেকে বাধ্যতামূলক ৪০/৫০ টাকা দিয়ে প্লাষ্টিক ও অন্যান্য পণ্য ব্যবহারিক পরিক্ষায় আদায় করা হচ্ছে। যে যত বেশি টাকা দিয়ে ব্যবহারিক পরিক্ষায় জিনিস বা পণ্য দিবে তার পরিক্ষার নাম্বারও তত বেশি বলে জানায় শিক্ষার্থীরা। ৪৭ নং গিলন্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার সকল শিক্ষার্থীদের দোকান থেকে এসব পণ্য ক্রয় করে ব্যবহারিক পরিক্ষায় অংশগ্রহন করতে বলেছেন বলে ৫ম শ্রেনীর সকল ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়। এছাড়া বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক সকল শিক্ষার্থীদের থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা নিয়ে স্কুলের চেয়ার কিনবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিবাবকরা।
শিক্ষার্থীরা জানায় ২/৩ জনের একটি দল করে চাঁদা উঠিয়ে ১০০ বা তার চেয়েও বেশি টাকা দিয়ে প্লাষ্টিকের পণ্য কিনে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক পরিক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এছাড়া কেউ কেউ আবার একক ভাবে প্লাষ্টিক পণ্য কিনে ব্যবহারিক পরিক্ষায় অংশ নিয়েছে। ব্যবহারিক পরিক্ষায় আদায় করা হচ্ছে প্লাষ্টিকের জগ,মগ, কাচের জগ, প্লেটসহ অন্যান্য জিনিসপত্র। কিন্তু পূর্বে এই বিদ্যালয়েই ব্যবহারিক পরিক্ষায় শিক্ষার্থীদের মন মত হাতে বানিয়ে বিভিন্ন জিনিস ব্যবহারিক পরিক্ষায় দিত। শিক্ষার্থীরা হাতে বানিয়ে ঝাঁড়–, মাটির ফুলের টব, খাচাঁ,পাখি, মাছ ইত্যাদি বানিয়ে ব্যবহারিক পরিক্ষায় দিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিবাবক জানান, বিগত সময়ে শিক্ষার্থীরা হাতে বানিয়ে ঝাঁড়–, মাটির ফুলের টব বানিয়ে ব্যবহারিক পরিক্ষায় দিত। নতুন প্রধান শিক্ষিকা আসার পর ছাত্র-ছাত্রীদের টাকা দিয়ে ব্যবহারিক পরিক্ষার বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে দিতে বলেছেন। অভিবাবকরা জানান ছেলে-মেয়েরা কান্নাকাটি করে এজন্য বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি। এছাড়া তারা আরও বলেন আমরা টাকা দিয়ে ব্যবহারিক পণ্য কিনে দেওয়ার ব্যাপারে প্রকাশ্যে কোন প্রতিবাদ করিনি। যদি আমাদের ছেলে-মেয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যঘাত ঘটে।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল মজিদ জানান, আসলে বিদ্যালয়ের কার্যকরী কোন বিষয় আমাদের জানানো হয়না। যখন কোন সমস্যা হয় তখন আমরা জানতে পারি। তিনি আরও বলেন ব্যবহারিক পরিক্ষায় পূর্বে হাতে বানানো জিনিস-পত্র নেওয়া হতো।৪৭ নং গিলন্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার জানান, হাতে বানানো মাটির জিনিসের কোন দরকার হয়না। পড়ে ফেলে দিতে হয়। এজন্য ছাত্র-ছাত্রীদের বলা হয়েছে তাদের অভিবাবকদের সাথে কথা বলে ব্যবহার করা যায় এমন পণ্য কিনে দিতে।
এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাইম মোঃ তৌহিদুল আমাদের এ ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিকে  জানান, প্লাষ্টিক বা কাচের কোন পণ্য ব্যবহারিক পরিক্ষায় নেওয়ার কোন সুযোগ নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*