শিরোনাম
Home >> ফটো গ্যালারী >> হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকি প্রদানকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকি প্রদানকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক রিপোর্ট,দেশের কন্ঠ ২৪.কম

হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সীমাহীন অপপ্রচার, হত্যার হুমকি, হামলার উস্কানি ও ফতোয়া প্রদান, গুজব রটিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টির লক্ষ্যে ষড়যন্ত্রকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে গতকাল শনিবার সকাল দশটায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সর্বোচ্চ নেতা ও এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে হেযবুত তওহীদের পক্ষে ছয়দফা দাবি উপস্থাপন ওসাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।
হেযবুত তওহীদের শীর্ষ এ নেতা বলেন, ‘হেযবুত তওহীদ আইন মান্যকারী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি আন্দোলন। টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পন্নী পরিবারের সন্তান এমামুয্যামান মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী কর্তৃক ১৯৯৫ সালে এ আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়। হেযবুত তওহীদ মানবতার কল্যাণে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাকে মানুষের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ-ধর্মব্যবসা-অপরাজনীতি-মাদক ইত্যাদির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ উপায়ে আদর্শিক সংগ্রাম করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে সেই শ্রেণিটি যারা ইসলামকে তাদের রুটি-রুজির মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছে এবং যারা অপরাজনীতিতে ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে এ পর্যন্ত বিভিন্ন জাতিবিনাশী কর্মকা- ঘটিয়েছে। এ শ্রেণিটি জনগণের কাছে হাজারো বিভ্রান্তিমূলক অসত্য তথ্য, গুজব, বানোয়াট বক্তব্য প্রচার করে হেযবুত তওহীদের মতো মহান একটি আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ পর্যন্ত তারা সংগঠনটির চারজন সদস্যকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে। বহুজনকে আহত করেছে, বহু বাড়িঘর ভস্মীভূত করেছে, লুটপাট- ভাঙচুর চালিয়েছে, বহু সদস্যকে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে। সম্প্রতি এই শ্রেণিটি আরও ব্যাপক পরিসরে তাদের এই হীন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, এই ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণিটি সুপরিকল্পিতভাবে তাদের ওয়াজ-মাহফিলে হেযবুত তওহীদকে মুরতাদ, কাফের, বাতিল, খ্রিষ্টান, গোমরাহ, ধর্ম অবমাননাকারী, কোর’আন-হাদিস অস্বীকারকারী ইত্যাদি ফতোয়া প্রদান করে। এসব ফতোয়ায় প্ররোচিত হয়ে তাদের অন্ধ অনুসারীরা আমাদেরকে- প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যা করা হবে, মাথা কাটা হবে, বিনা জানাজায় দাফন করা হবে, কবর দেওয়া হবে, পুড়িয়ে হত্যা করা হবে ইত্যাদি ভাষায় হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আইসিটি আইন লঙ্ঘনকারী এবং মসজিদ-মাদ্রাসা ও ওয়াজ-মাহফিলের মতো যেসব স্থানে ধর্মপ্রাণ মানুষ ধর্মীয় কর্তব্য পালনার্থে যায়, সেসব দায়িত্বপূর্ণ স্থানকে অপব্যবহারকারী যে কোনো ব্যক্তিকে যেন আইনের আওতায় আনা হয় এবং ইতঃপূর্বে দায়েরকৃত মামলায় আসামীদের যেন গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়।’ এ বিষয়েতিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
এসময় এক প্রশ্নের জবাবে হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম সাম্প্রতিক সময়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদানকারী কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘এরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, গোপনে বৈঠক করে আমাকে হত্যার জন্য তাদের অনুসারীদের ক্ষেপিয়ে তুলছে। আমি আজ এই সংবাদ সম্মেলনে বলে যাচ্ছি, আমি যদি কখনো আক্রান্ত হই তাহলে আপনারা জানবেন এর জন্য তারাই দায়ি।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ তারা আদর্শিকভাবে ব্যর্থ হয়ে এখন আমার ব্যক্তিগত চরিত্রে কালিমা লেপনের হীন চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। আমি যা বলিনি, যা আমি করিনি কিংবা যে বিষয়ের সাথে আমার দূরতম সম্পর্ক পর্যন্ত নেই সেইসব নিয়ে সম্প্রতি তারা বিকৃতভাবে,  ক্ষতি আকারে প্রচার করছে।
সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ধর্মব্যবসায়ীদের করা বিভিন্ন অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি এ সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিওচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। সেই সাথে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হেযবুত তওহীদকে দেওয়া বিভিন্ন হুমকির ‘স্ক্রিনশট’ প্রদর্শন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*